ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ব্যালট যুদ্ধে নারী নেতৃত্ব: প্রতিকূলতা জয় করে ভোটের মাঠে লড়ছেন প্রার্থীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং এটি নারী নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রমাণের এক বড় পরীক্ষা। এবারের নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি ভোটে লড়ছেন একঝাঁক নারী প্রার্থী। মেধা, যোগ্যতা এবং জনসম্পৃক্ততাকে পুঁজি করে তারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ঢাকা-১০ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী হিসেবে ‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি। আইন পেশার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে তিনি ব্যবহার করছেন রাজনীতির মাঠে। সংবিধান ও নাগরিক অধিকার নিয়ে তার স্বচ্ছ ধারণা ভোটারদের আকৃষ্ট করছে। ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনের যানজট নিরসন, পর্যাপ্ত খেলার মাঠ তৈরি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তবে প্রচারণায় গিয়ে তাকে সাইবার বুলিং বা অনলাইন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নাসরিন সুলতানা মিলি মনে করেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয় বরং নীতিভিত্তিক রাজনৈতিক বিতর্কই হওয়া উচিত নির্বাচনের মূল ভিত্তি।

অন্যদিকে, ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে আলোচনায় এসেছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাসনিম জারা। জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এই তরুণ নেত্রী স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। মতিঝিল, সবুজবাগ ও ডেমরা এলাকার ভোটারদের থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিতে অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সরাসরি গণসংযোগ—উভয় মাধ্যমেই তিনি ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নারী প্রার্থীর সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিলেট-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদী লুনা ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন। নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী হিসেবে পরিচিত লুনা এখন ওই অঞ্চলের রাজনীতির অন্যতম কাণ্ডারি। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর এলাকায় গত দেড় দশকে থমকে যাওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পুনরায় সচল করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। নির্বাচিত হলে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ভোটারদের হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

রাজশাহী বিভাগের একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে নাটোর-১ আসনে বিএনপির হয়ে লড়ছেন ফারজানা শারমিন পুতুল। সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের কন্যা পুতুল তার বাবার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চান। ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের এই প্রার্থী নারী ভোটারদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, নারী প্রার্থী হওয়ায় সাধারণ নারীরা তাদের সমস্যার কথাগুলো অনায়াসেই তাকে বলতে পারছেন। এলাকার তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। কুরুচিপূর্ণ প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই নারী প্রার্থীরা প্রমাণ করছেন যে, প্রতিকূল পরিবেশ এবং সামাজিক বাধা সত্ত্বেও তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অবদান রাখতে প্রস্তুত। ভোটারদের প্রত্যাশা, যোগ্যতার মাপকাঠিতে সঠিক নেতৃত্বকে বেছে নিয়ে তারা দেশের উন্নয়নকে আরও বেগবান করবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানালেন খলিলুর রহমান

ব্যালট যুদ্ধে নারী নেতৃত্ব: প্রতিকূলতা জয় করে ভোটের মাঠে লড়ছেন প্রার্থীরা

আপডেট সময় : ০১:২৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং এটি নারী নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রমাণের এক বড় পরীক্ষা। এবারের নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি ভোটে লড়ছেন একঝাঁক নারী প্রার্থী। মেধা, যোগ্যতা এবং জনসম্পৃক্ততাকে পুঁজি করে তারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ঢাকা-১০ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী হিসেবে ‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি। আইন পেশার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে তিনি ব্যবহার করছেন রাজনীতির মাঠে। সংবিধান ও নাগরিক অধিকার নিয়ে তার স্বচ্ছ ধারণা ভোটারদের আকৃষ্ট করছে। ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনের যানজট নিরসন, পর্যাপ্ত খেলার মাঠ তৈরি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তবে প্রচারণায় গিয়ে তাকে সাইবার বুলিং বা অনলাইন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নাসরিন সুলতানা মিলি মনে করেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয় বরং নীতিভিত্তিক রাজনৈতিক বিতর্কই হওয়া উচিত নির্বাচনের মূল ভিত্তি।

অন্যদিকে, ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে আলোচনায় এসেছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাসনিম জারা। জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এই তরুণ নেত্রী স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। মতিঝিল, সবুজবাগ ও ডেমরা এলাকার ভোটারদের থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিতে অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সরাসরি গণসংযোগ—উভয় মাধ্যমেই তিনি ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নারী প্রার্থীর সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিলেট-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদী লুনা ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন। নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী হিসেবে পরিচিত লুনা এখন ওই অঞ্চলের রাজনীতির অন্যতম কাণ্ডারি। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর এলাকায় গত দেড় দশকে থমকে যাওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পুনরায় সচল করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। নির্বাচিত হলে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ভোটারদের হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

রাজশাহী বিভাগের একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে নাটোর-১ আসনে বিএনপির হয়ে লড়ছেন ফারজানা শারমিন পুতুল। সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের কন্যা পুতুল তার বাবার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চান। ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের এই প্রার্থী নারী ভোটারদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, নারী প্রার্থী হওয়ায় সাধারণ নারীরা তাদের সমস্যার কথাগুলো অনায়াসেই তাকে বলতে পারছেন। এলাকার তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। কুরুচিপূর্ণ প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই নারী প্রার্থীরা প্রমাণ করছেন যে, প্রতিকূল পরিবেশ এবং সামাজিক বাধা সত্ত্বেও তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অবদান রাখতে প্রস্তুত। ভোটারদের প্রত্যাশা, যোগ্যতার মাপকাঠিতে সঠিক নেতৃত্বকে বেছে নিয়ে তারা দেশের উন্নয়নকে আরও বেগবান করবেন।