দেশের প্রকৌশল শিক্ষাকে সরাসরি শিল্প খাতের সঙ্গে একীভূত করার লক্ষ্যে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) একটি অত্যাধুনিক আইসিটি ইনকিউবেটর স্থাপনের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। বিটোপিয়া গ্রুপের সহযোগিতায় এই ইনকিউবেটরটি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক স্টার্টআপ গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।
বৃহস্পতিবার ডুয়েটের সভাকক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিটোপিয়া গ্রুপ (আইসিটি লিমিটেড) এই লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। ডুয়েটের পক্ষে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব এবং বিটোপিয়া গ্রুপের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মনির হোসাইন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার উপস্থিত ছিলেন।
এই আইসিটি ইনকিউবেটরটি ডুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘নার্সারি’ হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীদের গবেষণার ধারণা, থিসিস বা উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে বিটোপিয়া গ্রুপ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। ভবিষ্যতে সেমিকন্ডাক্টর প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উপাচার্য ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, “সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। এখন আমাদের শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরিপ্রত্যাশী হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে ডুয়েটের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে একটি টেকসই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।”
বিটোপিয়া গ্রুপের সিইও মো. মনির হোসেন জানান, আইসিটি ইনকিউবেটরের একটি নির্দিষ্ট স্থান শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে, যেখানে তারা হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। আইসিটির পাশাপাশি সিভিল, মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেও এই শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো, ডুয়েটের শিক্ষার্থীরা যেন তাদের অধ্যয়নকালের তৃতীয় বর্ষ থেকেই শিল্প খাতের সঙ্গে পরিচিতি লাভ করতে পারে এবং পড়াশোনা শেষ করেই কর্মজীবনে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই ইনকিউবেটরের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা তৈরি করা। এই মডেলটি সফল হলে দেশের অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 





















