ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত না হওয়ায় কর্মকর্তাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিদ্যমান সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাঙ্ক্ষিত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত না হওয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘অন্যায় ও মানহানিকর’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল’। সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন অপরিহার্য। তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জবাবদিহি সরকারের কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে না রেখে সরাসরি সংসদীয় কমিটির কাছে হওয়া উচিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই দাবি জানিয়ে আসা হলেও এখন পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’ ও ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন’ সংশোধনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা হতাশ।

কাউন্সিলের নেতারা উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্ব এবং গভর্নর হিসেবে ড. আহসান এইচ মনসুরের মতো অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি সংস্কার পিছিয়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা মনে করেন, যথাযথ স্বায়ত্তশাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া ব্যাংক খাতের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে যে বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছে, তা পেশাদার কর্মকর্তাদের মনোবলে চরম আঘাত হেনেছে। এ ধরনের মন্তব্যকে ‘অসংগত ও কুরুচিপূর্ণ’ উল্লেখ করে কর্মকর্তারা এর প্রতিবাদ জানান।

সরকারের ঋণ গ্রহণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বায়ত্তশাসন মানেই সরকারের ঋণ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। সরকার একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে এবং এর অতিরিক্ত প্রয়োজন হলে তা সরাসরি সংসদের অনুমোদনের মাধ্যমে হতে হবে।

এ সময় কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংকট নিরসনেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। বিশেষ করে পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর করা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার বাইরে নিয়োগ পাওয়া সকল চুক্তিভিত্তিক উপদেষ্টার নিয়োগ বাতিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক স্বার্থে গভর্নরের পূর্ণ মনোযোগ ও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নীল, হলুদ ও সবুজসহ বিভিন্ন মতাদর্শের কর্মকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমদানি-রফতানিতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ গভর্নরের

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত না হওয়ায় কর্মকর্তাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের বিদ্যমান সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাঙ্ক্ষিত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত না হওয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘অন্যায় ও মানহানিকর’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল’। সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন অপরিহার্য। তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জবাবদিহি সরকারের কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে না রেখে সরাসরি সংসদীয় কমিটির কাছে হওয়া উচিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই দাবি জানিয়ে আসা হলেও এখন পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’ ও ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন’ সংশোধনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা হতাশ।

কাউন্সিলের নেতারা উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্ব এবং গভর্নর হিসেবে ড. আহসান এইচ মনসুরের মতো অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি সংস্কার পিছিয়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা মনে করেন, যথাযথ স্বায়ত্তশাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া ব্যাংক খাতের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে যে বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছে, তা পেশাদার কর্মকর্তাদের মনোবলে চরম আঘাত হেনেছে। এ ধরনের মন্তব্যকে ‘অসংগত ও কুরুচিপূর্ণ’ উল্লেখ করে কর্মকর্তারা এর প্রতিবাদ জানান।

সরকারের ঋণ গ্রহণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বায়ত্তশাসন মানেই সরকারের ঋণ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। সরকার একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে এবং এর অতিরিক্ত প্রয়োজন হলে তা সরাসরি সংসদের অনুমোদনের মাধ্যমে হতে হবে।

এ সময় কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংকট নিরসনেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। বিশেষ করে পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর করা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার বাইরে নিয়োগ পাওয়া সকল চুক্তিভিত্তিক উপদেষ্টার নিয়োগ বাতিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক স্বার্থে গভর্নরের পূর্ণ মনোযোগ ও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নীল, হলুদ ও সবুজসহ বিভিন্ন মতাদর্শের কর্মকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করেন।