ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

সরকারি চাকরিতে সনাতনী বা গৎবাঁধা প্রশিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তে সমস্যা সমাধানভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। একইসঙ্গে নাগরিক সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে এমনভাবে জনবান্ধব ও দক্ষ করতে হবে, যাতে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে আটকে না থাকে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) প্রণীত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য হলো সেবাকে সহজতর করা। নাগরিকদের সেবার জন্য সরকারের কাছে আসতে হবে না, বরং সরকারের সেবাই পৌঁছে যাবে জনগণের দোরগোড়ায়। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেশনের আওতায় আনতে হবে, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।

দেশের প্রচলিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অবকাঠামো থাকলেও দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের পাঠ্যসূচিও আধুনিক নয়, যার ফলে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা যায় না। তিনি প্রশিক্ষণ পরবর্তী মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পুরস্কার বা প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন, যা তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে তিনি সেগুলোর মধ্যে র‍্যাঙ্কিং বা মানক্রম নির্ধারণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সরকারি এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বেসরকারি খাতের জনবলকেও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে জাতীয় পর্যায়ে একটি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে কমিটির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। মানদণ্ড ও সূচক নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘লার্নিং বাই ডুইং’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মান ও বিভিন্ন দেশের সফল উদাহরণগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের জন্য একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নির্দেশনায় জিআইইউ এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায় প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রধান প্রতিষ্ঠান—বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা এবং এনএপিডি-এর ওপর এই জরিপ ও মূল্যায়ন চালানো হয়। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং মানোন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক (সিনিয়র সচিব) লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমদানি-রফতানিতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ গভর্নরের

প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৯:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারি চাকরিতে সনাতনী বা গৎবাঁধা প্রশিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তে সমস্যা সমাধানভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। একইসঙ্গে নাগরিক সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে এমনভাবে জনবান্ধব ও দক্ষ করতে হবে, যাতে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে আটকে না থাকে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) প্রণীত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য হলো সেবাকে সহজতর করা। নাগরিকদের সেবার জন্য সরকারের কাছে আসতে হবে না, বরং সরকারের সেবাই পৌঁছে যাবে জনগণের দোরগোড়ায়। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেশনের আওতায় আনতে হবে, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।

দেশের প্রচলিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অবকাঠামো থাকলেও দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের পাঠ্যসূচিও আধুনিক নয়, যার ফলে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা যায় না। তিনি প্রশিক্ষণ পরবর্তী মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পুরস্কার বা প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন, যা তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে তিনি সেগুলোর মধ্যে র‍্যাঙ্কিং বা মানক্রম নির্ধারণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সরকারি এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বেসরকারি খাতের জনবলকেও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে জাতীয় পর্যায়ে একটি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে কমিটির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। মানদণ্ড ও সূচক নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘লার্নিং বাই ডুইং’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মান ও বিভিন্ন দেশের সফল উদাহরণগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের জন্য একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নির্দেশনায় জিআইইউ এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায় প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রধান প্রতিষ্ঠান—বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা এবং এনএপিডি-এর ওপর এই জরিপ ও মূল্যায়ন চালানো হয়। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং মানোন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক (সিনিয়র সচিব) লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।