জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যসহ সাতজন শিক্ষক এবং অন্তত ১০ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিকসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে ফলাফল ড্র থাকায় ম্যাচটি ট্রাইবেকারে গড়ায়। পেনাল্টি শুটআউট চলাকালীন দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সহিংসতার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হামলার শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আহতদের মধ্যে সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ সালেহ উদ্দীন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ও নাজমুস সাকিবসহ মোট সাতজন শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে লিমোন ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম, ফাতেমা আলী, সোহান ফরাজী, শিহাব, সোহানুর রহমান সুবেল, তৌসিন, নাইম, রাকিব ও মাজহার নামের ১০ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, “ফুটবল খেলা শেষে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে শিক্ষকরাও হামলার শিকার হয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শিক্ষক-সাংবাদিকসহ ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে আমরা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি।”
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি সূত্রের দাবি, এই হামলার নেপথ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কিছু অসাধু নেতাকর্মী জড়িত থাকতে পারে। পূর্বের কোনো ক্ষোভ থেকে তারা পরিকল্পিতভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, খেলার মাঠে এই ধরণের সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















