ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ক্যান্সার প্রতিরোধে সম্মিলিত লড়াই: স্বকীয়তায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনসচেতনতা ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সূচনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস ২০২৬-কে সামনে রেখে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ এক বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করেছে। এবারের বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘ইউনাইটেড বাই ইউনিক–স্বকীয়তায় ঐক্যবদ্ধ’ – এই স্লোগানকে ধারণ করে, বিভাগটি প্রতিটি মানুষের স্বতন্ত্র ক্যান্সার অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানিয়ে এই মারণব্যাধির বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বিএমইউ-এর বি-ব্লকের সামনে থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম এর শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের সূচনা হয়। র‍্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রচার করেন।

র‍্যালি শেষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগে ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড (ইএমআর) সিস্টেমের উদ্বোধন করেন মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। এর পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্যান্সার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো ক্যান্সার বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্যান্সার রোগীদের জীবনমান উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যান্সার রোগী ও তাদের সহায়তাকারীদের (কেয়ারগিভার) জন্য একটি সমন্বিত পেশেন্ট এডুকেশন প্রোগ্রাম চালু করেছে। বাংলাদেশে এই ধরনের এটি প্রথম উদ্যোগ, যা ক্যান্সার রোগ, চিকিৎসা পদ্ধতি, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, সঠিক পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি যত্ন সম্পর্কে রোগী ও তাদের পরিবারকে সচেতন ও সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়। সঠিক তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং রোগীকেন্দ্রিক সহায়তামূলক ব্যবস্থাই ভবিষ্যতের ক্যান্সার সেবার মূল ভিত্তি। তারা এই সমন্বিত উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানান এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সকলের অংশগ্রহণের উপর জোর দেন।

বিএমইউ-এর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও, ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখায়াত হোসেন সায়ন্থ, পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল করিম, প্যালিয়েটিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম মতিউর রহমান ভূঞা, গাইনীকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, জাতীয় জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার নির্ণয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেছা, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান (রতন), হেমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আদনান হাসান মাসুদ সহ উক্ত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করলেন সদ্যবিদায়ী গভর্নরের উপদেষ্টা

ক্যান্সার প্রতিরোধে সম্মিলিত লড়াই: স্বকীয়তায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনসচেতনতা ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সূচনা

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস ২০২৬-কে সামনে রেখে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ এক বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করেছে। এবারের বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘ইউনাইটেড বাই ইউনিক–স্বকীয়তায় ঐক্যবদ্ধ’ – এই স্লোগানকে ধারণ করে, বিভাগটি প্রতিটি মানুষের স্বতন্ত্র ক্যান্সার অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানিয়ে এই মারণব্যাধির বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বিএমইউ-এর বি-ব্লকের সামনে থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম এর শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের সূচনা হয়। র‍্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রচার করেন।

র‍্যালি শেষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগে ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড (ইএমআর) সিস্টেমের উদ্বোধন করেন মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। এর পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্যান্সার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো ক্যান্সার বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্যান্সার রোগীদের জীবনমান উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যান্সার রোগী ও তাদের সহায়তাকারীদের (কেয়ারগিভার) জন্য একটি সমন্বিত পেশেন্ট এডুকেশন প্রোগ্রাম চালু করেছে। বাংলাদেশে এই ধরনের এটি প্রথম উদ্যোগ, যা ক্যান্সার রোগ, চিকিৎসা পদ্ধতি, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, সঠিক পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি যত্ন সম্পর্কে রোগী ও তাদের পরিবারকে সচেতন ও সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়। সঠিক তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং রোগীকেন্দ্রিক সহায়তামূলক ব্যবস্থাই ভবিষ্যতের ক্যান্সার সেবার মূল ভিত্তি। তারা এই সমন্বিত উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানান এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সকলের অংশগ্রহণের উপর জোর দেন।

বিএমইউ-এর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও, ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখায়াত হোসেন সায়ন্থ, পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল করিম, প্যালিয়েটিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম মতিউর রহমান ভূঞা, গাইনীকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, জাতীয় জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার নির্ণয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেছা, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান (রতন), হেমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আদনান হাসান মাসুদ সহ উক্ত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।