ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ভ্রমণপথে বমি ও শারীরিক অস্বস্তি: কেন হয় ‘মোশন সিকনেস’ এবং প্রতিকারের উপায়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের দীর্ঘ পথ কিংবা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় ভ্রমণের সময় অনেকেরই মাথাঘোরা, মাথাব্যথা কিংবা বমির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘মোশন সিকনেস’। মূলত বাস, ট্রেন, জাহাজ কিংবা উড়োজাহাজে যাতায়াতের সময় শরীরের ভারসাম্য রক্ষাকারী ব্যবস্থার সঙ্গে মস্তিষ্কের স্নায়বিক সমন্বয়হীনতার ফলে এই শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার মূল কাজটি সম্পন্ন করে কানের ভেতরের ‘ভেস্টিবুলার সিস্টেম’। ভ্রমণের সময় যখন চোখ, কান ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে মস্তিষ্কে ভিন্ন ভিন্ন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য পৌঁছায়, তখনই মোশন সিকনেস দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, চলন্ত যানবাহনে বসে থাকার সময় চোখ হয়তো স্থির কিছু দেখছে, কিন্তু কানের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষাকারী অঙ্গ গতির সংকেত দিচ্ছে। এই তথ্যের অমিল মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে তোলে এবং ব্রেনস্টেম বা হাইপোথ্যালামাসের মতো অংশগুলোকে উদ্দীপ্ত করে, যার ফলে বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

ভ্রমণকালীন এই সমস্যা সবার ক্ষেত্রে সমান হয় না। কেউ যাত্রা শুরুর পরপরই অসুস্থ বোধ করেন, আবার কেউ দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর অস্বস্তিতে ভোগেন। বিশেষ করে পাহাড়ি পথ, উঁচু-নিচু সড়ক, যানবাহনের ক্রমাগত ঝাঁকুনি এবং ভেতরের গুমোট পরিবেশ বা অপ্রীতিকর গন্ধ এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তোলে।

ভ্রমণকে আরামদায়ক ও বমিমুক্ত রাখতে চিকিৎসকরা কিছু বিশেষ পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

১. খাবার গ্রহণে সতর্কতা: ভ্রমণের ঠিক আগে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে একেবারে খালি পেটে ভ্রমণ করাও উচিত নয়; হালকা কোনো স্ন্যাকস বা খাবার খেয়ে যাত্রা শুরু করা ভালো।

২. দৃষ্টি ও অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ: চলন্ত অবস্থায় বই পড়া বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ, স্থির কোনো বস্তুতে মনোযোগ দিলে মোশন সিকনেস দ্রুত বাড়তে পারে। এর পরিবর্তে সামনের জানালার দিকে তাকিয়ে থাকা বা সামনের আসনে বসা কার্যকর হতে পারে। সম্ভব হলে নিজেই গাড়ি চালানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।

৩. শরীরের স্থিতিশীলতা: যাত্রার সময় মাথা, কাঁধ ও কোমরের নড়াচড়া যতটা সম্ভব কমিয়ে শরীরকে স্থির রাখার চেষ্টা করতে হবে। যানবাহনের ঝাঁকুনি কমানোর জন্য যানের মাঝখানের বা সামনের দিকের আসন বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. বিকল্প অভ্যাস: ধূমপান বা নিকোটিন গ্রহণ বমির প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়, তাই ভ্রমণের আগে ও চলাকালীন এটি বর্জন করা জরুরি। এছাড়া হালকা মেজাজের ও পছন্দসই গান শুনলে মন শান্ত থাকে, যা বমি ভাব কমাতে সহায়ক বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

৫. চিকিৎসকের পরামর্শ: যাদের মোশন সিকনেসের সমস্যা তীব্র, তারা যাত্রার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বমিরোধক ওষুধ সেবন করতে পারেন। তবে যেকোনো ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

ভ্রমণকালীন এই সাধারণ সচেতনতাগুলো মেনে চললে মোশন সিকনেসের অস্বস্তি কাটিয়ে একটি আনন্দদায়ক যাত্রা উপভোগ করা সম্ভব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করলেন সদ্যবিদায়ী গভর্নরের উপদেষ্টা

ভ্রমণপথে বমি ও শারীরিক অস্বস্তি: কেন হয় ‘মোশন সিকনেস’ এবং প্রতিকারের উপায়

আপডেট সময় : ০৬:০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের দীর্ঘ পথ কিংবা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় ভ্রমণের সময় অনেকেরই মাথাঘোরা, মাথাব্যথা কিংবা বমির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘মোশন সিকনেস’। মূলত বাস, ট্রেন, জাহাজ কিংবা উড়োজাহাজে যাতায়াতের সময় শরীরের ভারসাম্য রক্ষাকারী ব্যবস্থার সঙ্গে মস্তিষ্কের স্নায়বিক সমন্বয়হীনতার ফলে এই শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার মূল কাজটি সম্পন্ন করে কানের ভেতরের ‘ভেস্টিবুলার সিস্টেম’। ভ্রমণের সময় যখন চোখ, কান ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে মস্তিষ্কে ভিন্ন ভিন্ন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য পৌঁছায়, তখনই মোশন সিকনেস দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, চলন্ত যানবাহনে বসে থাকার সময় চোখ হয়তো স্থির কিছু দেখছে, কিন্তু কানের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষাকারী অঙ্গ গতির সংকেত দিচ্ছে। এই তথ্যের অমিল মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে তোলে এবং ব্রেনস্টেম বা হাইপোথ্যালামাসের মতো অংশগুলোকে উদ্দীপ্ত করে, যার ফলে বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

ভ্রমণকালীন এই সমস্যা সবার ক্ষেত্রে সমান হয় না। কেউ যাত্রা শুরুর পরপরই অসুস্থ বোধ করেন, আবার কেউ দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর অস্বস্তিতে ভোগেন। বিশেষ করে পাহাড়ি পথ, উঁচু-নিচু সড়ক, যানবাহনের ক্রমাগত ঝাঁকুনি এবং ভেতরের গুমোট পরিবেশ বা অপ্রীতিকর গন্ধ এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তোলে।

ভ্রমণকে আরামদায়ক ও বমিমুক্ত রাখতে চিকিৎসকরা কিছু বিশেষ পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

১. খাবার গ্রহণে সতর্কতা: ভ্রমণের ঠিক আগে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে একেবারে খালি পেটে ভ্রমণ করাও উচিত নয়; হালকা কোনো স্ন্যাকস বা খাবার খেয়ে যাত্রা শুরু করা ভালো।

২. দৃষ্টি ও অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ: চলন্ত অবস্থায় বই পড়া বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ, স্থির কোনো বস্তুতে মনোযোগ দিলে মোশন সিকনেস দ্রুত বাড়তে পারে। এর পরিবর্তে সামনের জানালার দিকে তাকিয়ে থাকা বা সামনের আসনে বসা কার্যকর হতে পারে। সম্ভব হলে নিজেই গাড়ি চালানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।

৩. শরীরের স্থিতিশীলতা: যাত্রার সময় মাথা, কাঁধ ও কোমরের নড়াচড়া যতটা সম্ভব কমিয়ে শরীরকে স্থির রাখার চেষ্টা করতে হবে। যানবাহনের ঝাঁকুনি কমানোর জন্য যানের মাঝখানের বা সামনের দিকের আসন বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. বিকল্প অভ্যাস: ধূমপান বা নিকোটিন গ্রহণ বমির প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়, তাই ভ্রমণের আগে ও চলাকালীন এটি বর্জন করা জরুরি। এছাড়া হালকা মেজাজের ও পছন্দসই গান শুনলে মন শান্ত থাকে, যা বমি ভাব কমাতে সহায়ক বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

৫. চিকিৎসকের পরামর্শ: যাদের মোশন সিকনেসের সমস্যা তীব্র, তারা যাত্রার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বমিরোধক ওষুধ সেবন করতে পারেন। তবে যেকোনো ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

ভ্রমণকালীন এই সাধারণ সচেতনতাগুলো মেনে চললে মোশন সিকনেসের অস্বস্তি কাটিয়ে একটি আনন্দদায়ক যাত্রা উপভোগ করা সম্ভব।