ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

স্থাপত্যশৈলীতে মোগল ঐতিহ্যের স্বাক্ষর: পঞ্চগড়ের চারশ বছরের প্রাচীন মির্জাপুর শাহি মসজিদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

হিমালয়কন্যা খ্যাত দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক নিদর্শনেও অনন্য। কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় রূপ, দিগন্তজোড়া চা-বাগান আর পাহাড়ি নদীবেষ্টিত এই জনপদে ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের নানা প্রাচীন অধ্যায়। পঞ্চগড়ের সেই গৌরবময় ইতিহাসের অন্যতম এক সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় চারশ বছরের পুরনো মির্জাপুর শাহি মসজিদ। মোগল আমলের আভিজাত্য আর শৈল্পিক কারুকার্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ এই ধর্মীয় স্থাপনাটি।

ঐতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, মির্জাপুর শাহি মসজিদটি ১৬৫৬ সালে মোগল সম্রাট শাহ সুজার শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদের কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের ওপর ফার্সি ভাষায় খোদাই করা একটি প্রাচীন শিলালিপি থেকে এর নির্মাণকাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে এর নির্মাতা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, মির্জাপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মালিক উদ্দিন মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। আবার অনেকের মতে, দোস্ত মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি এই নান্দনিক স্থাপত্যটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।

মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি সম্পূর্ণ মোগল রীতির আদলে তৈরি। আয়তাকার এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২৫ ফুট। এর ছাদের ওপর একই সারিতে তিনটি সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে, যা দূর থেকে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গম্বুজগুলোর শীর্ষভাগ ক্রমহ্রাসমান বেল্ট দ্বারা সুশোভিত। মসজিদের চার কোণে চারটি সুউচ্চ ও কারুকার্যখচিত মিনার রয়েছে, যা স্থাপনাটিকে দিয়েছে এক রাজকীয় রূপ।

মসজিদের সামনের দেয়ালের প্রধান প্রবেশপথের দুপাশে গম্বুজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও দুটি ছোট মিনার তৈরি করা হয়েছে। এই মিনারগুলোর নিচের অংশ বর্গাকার এবং কারুকাজ অত্যন্ত সূক্ষ্ম। এছাড়া পশ্চিম দিকের দেয়ালেও একই ধরনের দুটি ক্ষুদ্র মিনার স্থাপত্যটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চার শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও মির্জাপুর শাহি মসজিদটি আজও তার প্রাচীন জৌলুস ও ধর্মীয় গাম্ভীর্য বজায় রেখে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে, যা দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ইতিহাসবেত্তাদের কাছে এক বিস্ময়কর আকর্ষণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা: সদর দপ্তর নির্ধারণে নথিপত্রে অসংগতি ও গণশুনানির সুপারিশ উপেক্ষার অভিযোগ

স্থাপত্যশৈলীতে মোগল ঐতিহ্যের স্বাক্ষর: পঞ্চগড়ের চারশ বছরের প্রাচীন মির্জাপুর শাহি মসজিদ

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হিমালয়কন্যা খ্যাত দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক নিদর্শনেও অনন্য। কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় রূপ, দিগন্তজোড়া চা-বাগান আর পাহাড়ি নদীবেষ্টিত এই জনপদে ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের নানা প্রাচীন অধ্যায়। পঞ্চগড়ের সেই গৌরবময় ইতিহাসের অন্যতম এক সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় চারশ বছরের পুরনো মির্জাপুর শাহি মসজিদ। মোগল আমলের আভিজাত্য আর শৈল্পিক কারুকার্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ এই ধর্মীয় স্থাপনাটি।

ঐতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, মির্জাপুর শাহি মসজিদটি ১৬৫৬ সালে মোগল সম্রাট শাহ সুজার শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদের কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের ওপর ফার্সি ভাষায় খোদাই করা একটি প্রাচীন শিলালিপি থেকে এর নির্মাণকাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে এর নির্মাতা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, মির্জাপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মালিক উদ্দিন মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। আবার অনেকের মতে, দোস্ত মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি এই নান্দনিক স্থাপত্যটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।

মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি সম্পূর্ণ মোগল রীতির আদলে তৈরি। আয়তাকার এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২৫ ফুট। এর ছাদের ওপর একই সারিতে তিনটি সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে, যা দূর থেকে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গম্বুজগুলোর শীর্ষভাগ ক্রমহ্রাসমান বেল্ট দ্বারা সুশোভিত। মসজিদের চার কোণে চারটি সুউচ্চ ও কারুকার্যখচিত মিনার রয়েছে, যা স্থাপনাটিকে দিয়েছে এক রাজকীয় রূপ।

মসজিদের সামনের দেয়ালের প্রধান প্রবেশপথের দুপাশে গম্বুজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও দুটি ছোট মিনার তৈরি করা হয়েছে। এই মিনারগুলোর নিচের অংশ বর্গাকার এবং কারুকাজ অত্যন্ত সূক্ষ্ম। এছাড়া পশ্চিম দিকের দেয়ালেও একই ধরনের দুটি ক্ষুদ্র মিনার স্থাপত্যটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চার শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও মির্জাপুর শাহি মসজিদটি আজও তার প্রাচীন জৌলুস ও ধর্মীয় গাম্ভীর্য বজায় রেখে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে, যা দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ইতিহাসবেত্তাদের কাছে এক বিস্ময়কর আকর্ষণ।