আজ সকালে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন উপদেষ্টার গাড়ি অবরুদ্ধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন আন্দোলনকারীরা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তার আশু অপসারণের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে উপদেষ্টার গাড়ি আটকে রাখায় বন্দর এলাকায় তীব্র যানজট ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে নৌ উপদেষ্টা তার কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় বন্দরের প্রধান ফটকের সামনে আগে থেকে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীরা তার গাড়ির গতি রোধ করে। তারা ‘দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান নিপাত যাক’, ‘শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা করো’, ‘অবিলম্বে চেয়ারম্যানের অপসারণ চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বর্তমান চেয়ারম্যানের মেয়াদে বন্দরে ব্যাপক অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য, উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি এবং শ্রমিকদের প্রতি বঞ্চনা চরমে পৌঁছেছে। তারা অভিযোগ করেন, বন্দরের সম্পদ আত্মসাৎ ও পরিবেশ দূষণের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের মধ্যস্থতায় নৌ উপদেষ্টা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের দাবি-দাওয়া মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন। উপদেষ্টার আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা তার গাড়ি ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। এই ঘটনায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়। বন্দর ব্যবহারকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 





















