ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও গুমের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত: জাতিসংঘে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রস্তাব গৃহীত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশনের (সিএটি) অনুচ্ছেদ ১৪(১) সংক্রান্ত বাংলাদেশের দেওয়া সংরক্ষণী শর্ত বিষয়ক ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হলো। গত ২৯ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্যাতনবিরোধী এই কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হয় এবং বর্তমানে বিশ্বের ১৭৩টি রাষ্ট্র এটি অনুসমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে কনভেনশনটিতে অনুসমর্থন দেয়।

কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ মোট পাঁচটি রাষ্ট্র — বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও যুক্তরাষ্ট্র — চুক্তিতে যোগদানের সময় সংরক্ষণী শর্ত আরোপ করেছিল। এসব সংরক্ষণী শর্তের কারণে এতদিন রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এখন এই সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারের ফলে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাওয়ার পথ সুগম হলো। এর ফলে, নির্যাতনের কারণে কোনো ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।

উপদেষ্টা পরিষদ এই সিদ্ধান্তকে একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে। বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের দাবি ছিল এই সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহার করা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে রিকশাচালক আহত, তদন্তে পুলিশ

রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও গুমের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত: জাতিসংঘে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রস্তাব গৃহীত

আপডেট সময় : ০৫:০১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশনের (সিএটি) অনুচ্ছেদ ১৪(১) সংক্রান্ত বাংলাদেশের দেওয়া সংরক্ষণী শর্ত বিষয়ক ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হলো। গত ২৯ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্যাতনবিরোধী এই কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হয় এবং বর্তমানে বিশ্বের ১৭৩টি রাষ্ট্র এটি অনুসমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে কনভেনশনটিতে অনুসমর্থন দেয়।

কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ মোট পাঁচটি রাষ্ট্র — বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও যুক্তরাষ্ট্র — চুক্তিতে যোগদানের সময় সংরক্ষণী শর্ত আরোপ করেছিল। এসব সংরক্ষণী শর্তের কারণে এতদিন রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এখন এই সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারের ফলে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাওয়ার পথ সুগম হলো। এর ফলে, নির্যাতনের কারণে কোনো ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।

উপদেষ্টা পরিষদ এই সিদ্ধান্তকে একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে। বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের দাবি ছিল এই সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহার করা।