ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

গবেষণার জমি উদ্ধারে শেকৃবিতে উত্তাল বিক্ষোভ, ভাঙচুর গণপূর্তের বিলবোর্ড

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বেহাত হওয়া জমি ও গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে একজোট হয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পুরাতন বাণিজ্য মেলার পরিত্যক্ত মাঠে ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ ব্যানারে এক ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে জমি ফেরত না দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। সভা শেষে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা মাঠের নিয়ন্ত্রণে থাকা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থাপিত একটি বিলবোর্ড ভাঙচুর করেন।

সমাবেশে বক্তারা জানান, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি একসময় ২৯৮ একর জায়গার ওপর বিস্তৃত ছিল। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে এই জমি সংকুচিত হয়ে বর্তমানে মাত্র ৮৭ একরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, জমিটি বর্তমানে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও এর প্রকৃত মালিক বিশ্ববিদ্যালয়। এই জমি কৃষি গবেষণা ও পরিবেশ রক্ষায় বনায়নের জন্য ব্যবহার করা হবে, কোনো অট্টালিকা নির্মাণের জন্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, “শেকৃবি এখন ছয় হাজার সদস্যের এক বিশাল পরিবার। আধুনিক কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের গবেষণার জায়গা অত্যন্ত অপ্রতুল। এই মাঠ পুনরুদ্ধার করতে হলে আমাদের প্রশাসনিক ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ—উভয় দিক থেকেই এগোতে হবে।” জৈষ্ঠ্য শিক্ষকরা জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে ইতোমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লানিং হেড সরোয়ার হোসেন মাঠের একটি খসড়া মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেন, যেখানে ক্রপ মিউজিয়াম ও আধুনিক ফার্ম অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবুল হাসান বলেন, “একজন ব্যক্তি যেমন তার পৈতৃক সম্পত্তি ছাড় দেয় না, তেমনি আমরা আমাদের এই মাঠ কোনোভাবেই ছাড় দেব না।” অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ অভিযোগ করেন, “তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নানা কূটকৌশলে আমাদের নিকট থেকে এই জমি নিয়ে নেয়। বর্তমানে এই জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাই আমাদের জমি আমরা গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য ফেরত চাই।” এনসিপি নেতা তৌহিদ আহমেদ আশিক বলেন, “সরকারের বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল চাপ তৈরি করবে, তবে আমাদের কাজ হবে শিক্ষার্থীদের এটা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা।”

মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, “১৯৮৬ সালেও এই মাঠ আমাদের ছিল। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর এই পরিবারের কাছ থেকে মাঠ ছিনিয়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। একজন মা যেমন তার সন্তানকে ধরে রাখে, শেকৃবি পরিবার এই মাঠ সেভাবেই আগলে রাখবে।”

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতিসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে তাদের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে রিকশাচালক আহত, তদন্তে পুলিশ

গবেষণার জমি উদ্ধারে শেকৃবিতে উত্তাল বিক্ষোভ, ভাঙচুর গণপূর্তের বিলবোর্ড

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বেহাত হওয়া জমি ও গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে একজোট হয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পুরাতন বাণিজ্য মেলার পরিত্যক্ত মাঠে ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ ব্যানারে এক ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে জমি ফেরত না দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। সভা শেষে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা মাঠের নিয়ন্ত্রণে থাকা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থাপিত একটি বিলবোর্ড ভাঙচুর করেন।

সমাবেশে বক্তারা জানান, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি একসময় ২৯৮ একর জায়গার ওপর বিস্তৃত ছিল। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে এই জমি সংকুচিত হয়ে বর্তমানে মাত্র ৮৭ একরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, জমিটি বর্তমানে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও এর প্রকৃত মালিক বিশ্ববিদ্যালয়। এই জমি কৃষি গবেষণা ও পরিবেশ রক্ষায় বনায়নের জন্য ব্যবহার করা হবে, কোনো অট্টালিকা নির্মাণের জন্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, “শেকৃবি এখন ছয় হাজার সদস্যের এক বিশাল পরিবার। আধুনিক কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের গবেষণার জায়গা অত্যন্ত অপ্রতুল। এই মাঠ পুনরুদ্ধার করতে হলে আমাদের প্রশাসনিক ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ—উভয় দিক থেকেই এগোতে হবে।” জৈষ্ঠ্য শিক্ষকরা জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে ইতোমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লানিং হেড সরোয়ার হোসেন মাঠের একটি খসড়া মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেন, যেখানে ক্রপ মিউজিয়াম ও আধুনিক ফার্ম অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবুল হাসান বলেন, “একজন ব্যক্তি যেমন তার পৈতৃক সম্পত্তি ছাড় দেয় না, তেমনি আমরা আমাদের এই মাঠ কোনোভাবেই ছাড় দেব না।” অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ অভিযোগ করেন, “তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নানা কূটকৌশলে আমাদের নিকট থেকে এই জমি নিয়ে নেয়। বর্তমানে এই জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাই আমাদের জমি আমরা গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য ফেরত চাই।” এনসিপি নেতা তৌহিদ আহমেদ আশিক বলেন, “সরকারের বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল চাপ তৈরি করবে, তবে আমাদের কাজ হবে শিক্ষার্থীদের এটা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা।”

মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, “১৯৮৬ সালেও এই মাঠ আমাদের ছিল। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর এই পরিবারের কাছ থেকে মাঠ ছিনিয়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। একজন মা যেমন তার সন্তানকে ধরে রাখে, শেকৃবি পরিবার এই মাঠ সেভাবেই আগলে রাখবে।”

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতিসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে তাদের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।