রাজধানীর স্বনামধন্য পাঁচ তারকা হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পদে এক ভারতীয় নাগরিককে নিয়োগের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য গোপন এবং তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা গুরুতর অভিযোগ ওঠায় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের শীর্ষ এই পদে ডমিনিক দিবাকর ডি’সুজা নামের এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাসপোর্টে তাঁকে ইতালীয় নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, অনুসন্ধানে জানা গেছে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশে কর্মরত অনেক ভারতীয় নাগরিক নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বড় বড় করপোরেট ও মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে আসীন হচ্ছেন। তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে তথ্য পাচারের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগও রয়েছে।
জানা গেছে, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) শৈবাল চন্দ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থানরত দিবাকর ডি’সুজা বাংলাদেশে আসার জন্য সেখান থেকেই ভিসার আবেদন করেছেন। তবে তাঁর এই নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চার মাস পুরোনো একটি সুপারিশপত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিয়ে খোদ প্রশাসনের অন্দরমহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে নিয়োগের জন্য পুরোনো সুপারিশ ব্যবহারের বিষয়টিকে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এমনকি কোনো কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার আশঙ্কায় তাঁকে ভিসা প্রদান করা দেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন দায়িত্বশীলরা।
দেশের পর্যটন ও সেবা খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন বিতর্কিত নিয়োগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসার পেছনে রয়েছে অন্য এক পাঁচ তারকা হোটেলের তিক্ত অভিজ্ঞতা। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মহাব্যবস্থাপক অশ্বনী নায়ারের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে কর্মীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ রয়েছে, অশ্বনী নায়ার প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে হোটেল পরিচালনা করতেন এবং তুচ্ছ কারণে কর্মীদের চাকরিচ্যুত বা পদত্যাগে বাধ্য করতেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ইন্টারকন্টিনেন্টালের এই কর্মকর্তা বিগত সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়মিত বিশেষ সুবিধা ও ছাড় দিয়ে নিজের প্রভাব বলয় তৈরি করেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থেকে শুরু করে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপঢৌকন ও ডিসকাউন্ট দিয়ে তুষ্ট রাখতেন তিনি। এমনকি বিএসএল কমপ্লেক্সে আবাসনের ব্যবস্থা থাকলেও তিনি মাসিক দুই লাখ টাকা ভাড়ায় গুলশানের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করেন।
সোনারগাঁও হোটেলের নতুন জিএম নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব নিয়ে লুকোচুরি এবং বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগের চেষ্টা হোটেলের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 





















