আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করলেও, অর্থ ও সরঞ্জাম সংকট, বিশেষ করে যানবাহনের অভাব, বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যাশিত বাজেটের চেয়ে কম বরাদ্দ পাওয়ায় এবং সাম্প্রতিক ‘জুলাই বিপ্লবে’ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে টহল ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
নির্বাচনি নিরাপত্তায় পুলিশ বাহিনী এ পর্যন্ত ২৮৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বাজেট চাওয়া হয়েছিল, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ে জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বরাদ্দে পুলিশ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। ‘জুলাই বিপ্লবের’ পর দেশের বিভিন্ন থানা ও অবকাঠামো মেরামত এবং নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনায় পুলিশের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ এবং নির্বাচন উপলক্ষে অতিরিক্ত সরঞ্জাম কেনার জন্য বাড়তি বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল বলে পুলিশ মনে করে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ‘জুলাই বিপ্লবের’ সময় সারাদেশে ১০৫টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে মোট ৪৫৫টি যানবাহন ভস্মীভূত হয়। এর মধ্যে ১৩টি জিপ, ১৭৩টি ডাবল কেবিন পিকআপ, ৫৬টি সিঙ্গেল কেবিন পিকআপ, ১২টি পেট্রল কার, ১২টি মাইক্রোবাস, দুটি অ্যাম্বুলেন্স, ১২টি ট্রাক, দুটি বাস, দুটি প্রিজন ভ্যান, ১৫৬টি মোটরসাইকেল, আটটি রেকার, চারটি এপিসি, একটি জলকামান এবং দুটি ক্রাইমসিন ম্যানেজমেন্ট ভ্যান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ব্যাপক ক্ষতির কারণে নির্বাচন ঘিরে বাড়তি টহল জোরদার করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে টহল কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
যানবাহন সংকট মোকাবিলায় পুলিশের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২২৮টি নতুন গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছিল। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি অর্থ বিভাগে চিঠিও পাঠানো হয়। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নতুন গাড়ি কেনা সম্ভব হয়নি, ফলে সংকট এখনো রয়ে গেছে। এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তহবিল সংকট এবং নির্বাচনের অন্যান্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এবার তুলনামূলক কম অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গতকাল বুধবার রাতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, গত দুই মাস ধরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্বাচনি বাজেট নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রত্যাশিত অঙ্কের চেয়ে কম বরাদ্দ পাওয়ায় পুলিশ হতাশ হলেও, সরকার নির্বাচনের পর অতিরিক্ত থোক বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর মনে করছে, গাড়ির সংকটের কারণে টহল কার্যক্রমে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তবে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। যেসব এলাকায় টহল সীমিত রাখা হচ্ছে, সেখানে উঠান বৈঠক বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা হচ্ছে। পুলিশের আশা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশি প্রহরায় ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী পরিবহন শুরু হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশের পিকেট পার্টি ও মোবাইল টিমের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকবেন।
রিপোর্টারের নাম 





















