ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

প্রতিহিংসা নয়, ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার: জামায়াতের ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এবং জনমানুষের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তৈরি করা এই ইশতেহারে ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ৪১টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ইশতেহারে ১০টি মৌলিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইতিবাচক বা ‘হ্যাঁ’ সূচক প্রতিশ্রুতি হলো—সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান। অন্যদিকে পাঁচটি নেতিবাচক বা ‘না’ সূচক প্রতিশ্রুতি হলো—দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি।

জামায়াতের আমির তার বক্তব্যে বলেন, এই ইশতেহার কেবল কোনো দলের নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করার একটি রূপরেখা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা কোনো দলীয় সরকার নয়, বরং জনগণের বিজয় চান। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। যারা আমার ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করেছে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। আমরা যুবসমাজের হাত ধরে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

ইশতেহারে উল্লিখিত ২৬টি অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে—জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ, যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের অগ্রাধিকার প্রদান। এছাড়া নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করা হয়েছে ইশতেহারে।

মানবাধিকার ও জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গে ইশতেহারে বলা হয়েছে, বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া সব গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করা হবে। কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ‘তিন শূন্য ভিশন’ (শূন্য পরিবেশগত ক্ষতি, শূন্য বর্জ্য ও শূন্য বন্যা-ঝুঁকি) বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে জামায়াতের পরিকল্পনায় রয়েছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সরকারি চাকরিতে আবেদনের ফি বাতিল, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং প্রতি বছর ৫০ লাখ যুবকের বিদেশের বাজারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বেকারত্ব দূর করতে জেলাভিত্তিক ‘হিউম্যান স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মায়েদের সুবিধার্থে কর্মঘণ্টা কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং শিশু খাদ্যের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর দূরত্ব সড়ক ও রেলপথে ২-৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও রয়েছে এতে।

দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে ইশতেহারে বলা হয়েছে, মন্ত্রী ও এমপিদের বার্ষিক সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া সরকারি দপ্তরগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সব সেবা ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

নারীর অধিকার ও সুরক্ষায় ‘জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স’ গঠন, আলাদা বাস সার্ভিস এবং উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে অধিকার নিশ্চিতে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হিজড়া জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও তাদের জন্য চাকরির কোটা সংরক্ষণের বিষয়টিও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।

ইশতেহারটি প্রণয়নে দেশ-বিদেশের প্রায় ২৫০ জন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে এবং ‘জনতার ইশতেহার’ নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, এই ইশতেহার কোনো চটকদার প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ও বাস্তবমুখী রূপরেখা। তিনি দেশ গড়ার এই যাত্রায় সবার সহযোগিতা ও গঠনমূলক পরামর্শ আহ্বান করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

প্রতিহিংসা নয়, ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার: জামায়াতের ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৮:৫১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এবং জনমানুষের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তৈরি করা এই ইশতেহারে ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ৪১টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ইশতেহারে ১০টি মৌলিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইতিবাচক বা ‘হ্যাঁ’ সূচক প্রতিশ্রুতি হলো—সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান। অন্যদিকে পাঁচটি নেতিবাচক বা ‘না’ সূচক প্রতিশ্রুতি হলো—দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি।

জামায়াতের আমির তার বক্তব্যে বলেন, এই ইশতেহার কেবল কোনো দলের নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করার একটি রূপরেখা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা কোনো দলীয় সরকার নয়, বরং জনগণের বিজয় চান। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। যারা আমার ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করেছে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। আমরা যুবসমাজের হাত ধরে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

ইশতেহারে উল্লিখিত ২৬টি অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে—জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ, যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের অগ্রাধিকার প্রদান। এছাড়া নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করা হয়েছে ইশতেহারে।

মানবাধিকার ও জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গে ইশতেহারে বলা হয়েছে, বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া সব গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করা হবে। কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ‘তিন শূন্য ভিশন’ (শূন্য পরিবেশগত ক্ষতি, শূন্য বর্জ্য ও শূন্য বন্যা-ঝুঁকি) বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে জামায়াতের পরিকল্পনায় রয়েছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সরকারি চাকরিতে আবেদনের ফি বাতিল, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং প্রতি বছর ৫০ লাখ যুবকের বিদেশের বাজারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বেকারত্ব দূর করতে জেলাভিত্তিক ‘হিউম্যান স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মায়েদের সুবিধার্থে কর্মঘণ্টা কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং শিশু খাদ্যের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর দূরত্ব সড়ক ও রেলপথে ২-৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও রয়েছে এতে।

দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে ইশতেহারে বলা হয়েছে, মন্ত্রী ও এমপিদের বার্ষিক সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া সরকারি দপ্তরগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সব সেবা ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

নারীর অধিকার ও সুরক্ষায় ‘জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স’ গঠন, আলাদা বাস সার্ভিস এবং উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে অধিকার নিশ্চিতে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হিজড়া জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও তাদের জন্য চাকরির কোটা সংরক্ষণের বিষয়টিও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।

ইশতেহারটি প্রণয়নে দেশ-বিদেশের প্রায় ২৫০ জন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে এবং ‘জনতার ইশতেহার’ নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, এই ইশতেহার কোনো চটকদার প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ও বাস্তবমুখী রূপরেখা। তিনি দেশ গড়ার এই যাত্রায় সবার সহযোগিতা ও গঠনমূলক পরামর্শ আহ্বান করেন।