ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ক্যানসারের ভয়াবহতা: প্রতি বছর আক্রান্ত ১.৬৭ লাখ, মৃত্যু ১.১৬ লাখ; জাতীয় কৌশলপত্রের দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

দেশে প্রতি বছর নতুন করে ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার। বিপুল সংখ্যক এই রোগীর চিকিৎসার সামর্থ্য দেশে অত্যন্ত সীমিত। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যানসার প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং একটি জাতীয় নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র প্রণয়ন জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল বুধবার বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেজর হায়দার মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ক্যানসার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব ক্যানসার দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘অনন্যতায় ঐকতান’ (United by Unique)।

আলোচনা সভায় বক্তারা জানান, দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৩০টির মতো ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও সবগুলোতে ক্যানসার চিকিৎসার সব আধুনিক পদ্ধতি চালু নেই। ফলে বিপুল সংখ্যক রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই সীমাবদ্ধতা দেশের ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সার্বিকভাবে একটি জাতীয় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র, কর্মপরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা অত্যাবশ্যক, যা বাংলাদেশে এখনো অনুপস্থিত। একই সঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের মেডিকেল কলেজগুলোতে সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। ক্যানসারের লক্ষণ প্রকাশের আগেই সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে গোপন ক্যানসার রোগী খুঁজে বের করার পদ্ধতি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাঈদ উজ-জামান অপু, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মোসাররত সৌরভ, ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ হুমায়ন কবির, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাশহুদা খাতুন শেফালী সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ এবং গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এমডি ডা. মনজুর কাদির আহমেদ।

অনুষ্ঠানে ক্যানসার প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সহযোদ্ধা হিসেবে ১০ জন সাংবাদিককে কৃতজ্ঞতা স্মারক উপহার দেওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

ক্যানসারের ভয়াবহতা: প্রতি বছর আক্রান্ত ১.৬৭ লাখ, মৃত্যু ১.১৬ লাখ; জাতীয় কৌশলপত্রের দাবি

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশে প্রতি বছর নতুন করে ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার। বিপুল সংখ্যক এই রোগীর চিকিৎসার সামর্থ্য দেশে অত্যন্ত সীমিত। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যানসার প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং একটি জাতীয় নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র প্রণয়ন জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল বুধবার বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেজর হায়দার মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ক্যানসার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব ক্যানসার দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘অনন্যতায় ঐকতান’ (United by Unique)।

আলোচনা সভায় বক্তারা জানান, দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৩০টির মতো ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও সবগুলোতে ক্যানসার চিকিৎসার সব আধুনিক পদ্ধতি চালু নেই। ফলে বিপুল সংখ্যক রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই সীমাবদ্ধতা দেশের ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সার্বিকভাবে একটি জাতীয় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র, কর্মপরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা অত্যাবশ্যক, যা বাংলাদেশে এখনো অনুপস্থিত। একই সঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের মেডিকেল কলেজগুলোতে সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। ক্যানসারের লক্ষণ প্রকাশের আগেই সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে গোপন ক্যানসার রোগী খুঁজে বের করার পদ্ধতি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাঈদ উজ-জামান অপু, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মোসাররত সৌরভ, ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ হুমায়ন কবির, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাশহুদা খাতুন শেফালী সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ এবং গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এমডি ডা. মনজুর কাদির আহমেদ।

অনুষ্ঠানে ক্যানসার প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সহযোদ্ধা হিসেবে ১০ জন সাংবাদিককে কৃতজ্ঞতা স্মারক উপহার দেওয়া হয়।