রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তাল। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বড় ধরনের শোডাউন করছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। শনিবার সকাল থেকেই ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীদের ঢলে রাজপথ পরিণত হয়েছে এক বিশাল জনসমুদ্রে। আকাশ থেকে বা বহুতল ভবনের ওপর থেকে তাকালে নয়াপল্টন থেকে শুরু করে মতিঝিল, আরামবাগ ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন কেবলই মানুষের মাথা আর রঙ-বেরঙের ব্যানারে ঢাকা।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতা-কর্মীদের বিশাল জমায়েত দেখা গেছে। সকাল গড়ানোর আগেই ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ব্যানার, ফেস্টুন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে তুলছেন পুরো এলাকা। অন্যদিকে, মতিঝিল ও আরামবাগ সংলগ্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর বিশাল জমায়েত লক্ষ্য করা গেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পুরো এলাকাটি যেন এক অবিচ্ছিন্ন মানবসমুদ্রে রূপ নিয়েছে।
উঁচু ভবনগুলো থেকে ধারণ করা ছবিতে দেখা যায়, রাজপথের কোনো অংশই ফাঁকা নেই। ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসা নেতা-কর্মীরা যখন মূল জমায়েতে যোগ দিচ্ছেন, তখন সেই জনস্রোত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে নয়াপল্টন মোড় এবং এর সংযোগকারী গলিগুলোতেও মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মঞ্চের আশপাশে অবস্থান নেওয়া কর্মীদের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের সড়কেও অবস্থান নিয়েছেন অনেকে।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ড্রোন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে জনসভার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই বিশাল জমায়েত দল দুটির সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ সময় পর রাজপথে এমন বিশাল উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিকেলের দিকে মূল বক্তব্য শুরু হওয়ার আগেই জনস্রোত আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা ওপর থেকে দেখলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এবং সুশৃঙ্খলভাবে সমাবেশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















