ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার: জামায়াতে ইসলামীর ৩৭ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ‘নিরাপদ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এই ইশতেহারের একটি বিশেষ অংশ জুড়ে রয়েছে ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার’ শিরোনামে ৩৭টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা প্রদান করে।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার উন্মোচন করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

জামায়াতে ইসলামীর স্বাস্থ্যখাত বিষয়ক ৩৭ দফা প্রতিশ্রুতিতে যা যা থাকছে:

উন্নত ও সুলভ চিকিৎসা: সকলের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী মূল্যের এবং মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।
বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা: পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ষাটোর্ধ্ব সকল নাগরিকের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি: প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিদ্যমান সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবা সক্ষমতা শতভাগ উন্নীত করা হবে। এর জন্য উন্নত ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, এবং চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা ও ডিজিটাল হেলথকার্ড: পর্যায়ক্রমে সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা এবং ডিজিটাল হেলথকার্ড চালু করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি: স্বাস্থ্যখাতে বাজেট পর্যায়ক্রমে তিনগুণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মী-রোগীর অনুপাত উন্নয়ন: চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী-রোগীর অনুপাত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে।
শূন্য পদে নিয়োগ: দ্রুততম সময়ে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টসহ সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিকেন্দ্রীকরণ ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে রাজধানীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যচাপ কমানো হবে। জেলা ও উপজেলায় ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করে মানুষের ভোগান্তি ও ব্যয় হ্রাস করা হবে।
জেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল: পর্যায়ক্রমে সকল জেলায় পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে, যাতে জনগণ নিজ জেলাতেই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে। প্রতিটি জেলা সদর সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জামসহ কমপক্ষে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপন করা হবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার: ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রেজিস্টার্ড স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ওষুধ সরবরাহ করা হবে। শহর ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র (জিপি সেন্টার) চালু করা হবে এবং সকল পর্যায়ে কার্যকর রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে।
টেলিমেডিসিন ও রেফারেল সিস্টেম: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে টেলিমেডিসিন ও রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে।
সুশাসন ও স্বচ্ছতা: স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি নির্মূলে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসহ সকল প্রতিষ্ঠানের আর্থিক আয়-ব্যয়ের তথ্য পাবলিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ক্রয় প্রক্রিয়ায় ই-জিপি চালু করা হবে।
নারী ও শিশু চিকিৎসায় অগ্রাধিকার: সকল হাসপাতালে নারী ও শিশু চিকিৎসায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা: প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের জন্য হোম কেয়ার, রিহ্যাবিলিটেশন ও প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা সহজীকরণ: বাংলাদেশের সকল হাসপাতালে প্রবাসীদের চিকিৎসাসেবা সহজীকরণ করা হবে।
কমিশন বাণিজ্য বন্ধ: আইন প্রণয়ন ও কার্যকর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে কমিশন বাণিজ্য, উপহার গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা লেখার অপসংস্কৃতি বন্ধ করা হবে।
স্বাস্থ্য ক্যাডারদের পদোন্নতি: সততা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ক্যাডারদের নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত করা হবে।
জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সরকারি হাসপাতালে সেবা: জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দেশের সরকারি হাসপাতালে সেবা গ্রহণে উৎসাহিত ও নিশ্চিত করা হবে।
মানহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উন্নয়ন: মানহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সার্বিক মানোন্নয়ন করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন (বিএবি, আইএসও, জেসিআই, এনএবিএইচ) মানে উন্নীত করা হবে।
বেসরকারি হাসপাতালের মনিটরিং: বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও সক্ষমতা আছে কিনা তা নিশ্চিত করা হবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মেডিকেল কলেজের মানোন্নয়ন: বর্তমানে চালু মানহীন মেডিকেল কলেজগুলোর মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিএমইউ সুপার-স্পেশালাইজড হাসপাতাল: মানসম্পন্ন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দ্রুত জনবল নিয়োগ করে বিএমইউ সুপার-স্পেশালাইজড হাসপাতাল চালু করা হবে।
দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ ও গবেষণা কেন্দ্র: বিএমইউসহ সকল মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এগুলি গবেষণা ও চিকিৎসায় উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি: দেশের স্বাস্থ্যখাতের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিতে উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করা হবে।
রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা: হাসপাতালে রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার নিষ্পত্তি: চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ বিএমডিসি আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে রোগীর অধিকার সংরক্ষণ করা হবে। বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিএমডিসি অফিস স্থাপন করে সারাদেশে চিকিৎসার মান তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
অটোমেশন চালু: রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সিরিয়াল, ভর্তি, অপারেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ প্রাপ্তিতে অটোমেশন চালু করা হবে।
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ: ৩০০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ (ইএমএল) নিয়ন্ত্রিত ও ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ করা হবে; ধাপে ধাপে তা ৫০০-তে উন্নীত করা হবে।
হাসপাতালে খাবারের গুণগতমান: হাসপাতালে রোগীদের খাবারের গুণগতমান প্রতি সপ্তাহে পরীক্ষা করা হবে।
মেডিকেল ট্যুরিজম ব্র্যান্ডিং: আন্তর্জাতিক মানের একাধিক মডেল হাসপাতাল চালু করে মেডিকেল ট্যুরিজমকে ব্র্যান্ডিং করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হবে।
জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন: দেশের জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ও সেবার গুণগত মান বাড়ানো হবে।
সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও ক্যান্সারসহ অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বনির্ভরতা: টিকাদান কর্মসূচিতে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা হবে।
রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ: প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা: মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ করে আসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ইডিসিএল-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি: সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
ওষুধের গ্রেডিং: ওষুধ কোম্পানি ও ওষুধকে গ্রেডিংয়ের আওতায় আনা হবে, যেখানে ওষুধের গুণগত মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জামায়াতে ইসলামী আশা প্রকাশ করেছে যে তাদের এই ৩৭ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সকল নাগরিক মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার: জামায়াতে ইসলামীর ৩৭ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময় : ১০:০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ‘নিরাপদ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এই ইশতেহারের একটি বিশেষ অংশ জুড়ে রয়েছে ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার’ শিরোনামে ৩৭টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা প্রদান করে।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার উন্মোচন করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

জামায়াতে ইসলামীর স্বাস্থ্যখাত বিষয়ক ৩৭ দফা প্রতিশ্রুতিতে যা যা থাকছে:

উন্নত ও সুলভ চিকিৎসা: সকলের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী মূল্যের এবং মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।
বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা: পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ষাটোর্ধ্ব সকল নাগরিকের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি: প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিদ্যমান সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবা সক্ষমতা শতভাগ উন্নীত করা হবে। এর জন্য উন্নত ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, এবং চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা ও ডিজিটাল হেলথকার্ড: পর্যায়ক্রমে সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা এবং ডিজিটাল হেলথকার্ড চালু করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি: স্বাস্থ্যখাতে বাজেট পর্যায়ক্রমে তিনগুণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মী-রোগীর অনুপাত উন্নয়ন: চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী-রোগীর অনুপাত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে।
শূন্য পদে নিয়োগ: দ্রুততম সময়ে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টসহ সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিকেন্দ্রীকরণ ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে রাজধানীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যচাপ কমানো হবে। জেলা ও উপজেলায় ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করে মানুষের ভোগান্তি ও ব্যয় হ্রাস করা হবে।
জেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল: পর্যায়ক্রমে সকল জেলায় পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে, যাতে জনগণ নিজ জেলাতেই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে। প্রতিটি জেলা সদর সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জামসহ কমপক্ষে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপন করা হবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার: ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রেজিস্টার্ড স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ওষুধ সরবরাহ করা হবে। শহর ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র (জিপি সেন্টার) চালু করা হবে এবং সকল পর্যায়ে কার্যকর রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে।
টেলিমেডিসিন ও রেফারেল সিস্টেম: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে টেলিমেডিসিন ও রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে।
সুশাসন ও স্বচ্ছতা: স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি নির্মূলে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসহ সকল প্রতিষ্ঠানের আর্থিক আয়-ব্যয়ের তথ্য পাবলিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ক্রয় প্রক্রিয়ায় ই-জিপি চালু করা হবে।
নারী ও শিশু চিকিৎসায় অগ্রাধিকার: সকল হাসপাতালে নারী ও শিশু চিকিৎসায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা: প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের জন্য হোম কেয়ার, রিহ্যাবিলিটেশন ও প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা সহজীকরণ: বাংলাদেশের সকল হাসপাতালে প্রবাসীদের চিকিৎসাসেবা সহজীকরণ করা হবে।
কমিশন বাণিজ্য বন্ধ: আইন প্রণয়ন ও কার্যকর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে কমিশন বাণিজ্য, উপহার গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা লেখার অপসংস্কৃতি বন্ধ করা হবে।
স্বাস্থ্য ক্যাডারদের পদোন্নতি: সততা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ক্যাডারদের নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত করা হবে।
জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সরকারি হাসপাতালে সেবা: জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দেশের সরকারি হাসপাতালে সেবা গ্রহণে উৎসাহিত ও নিশ্চিত করা হবে।
মানহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উন্নয়ন: মানহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সার্বিক মানোন্নয়ন করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন (বিএবি, আইএসও, জেসিআই, এনএবিএইচ) মানে উন্নীত করা হবে।
বেসরকারি হাসপাতালের মনিটরিং: বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও সক্ষমতা আছে কিনা তা নিশ্চিত করা হবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মেডিকেল কলেজের মানোন্নয়ন: বর্তমানে চালু মানহীন মেডিকেল কলেজগুলোর মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিএমইউ সুপার-স্পেশালাইজড হাসপাতাল: মানসম্পন্ন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দ্রুত জনবল নিয়োগ করে বিএমইউ সুপার-স্পেশালাইজড হাসপাতাল চালু করা হবে।
দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ ও গবেষণা কেন্দ্র: বিএমইউসহ সকল মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এগুলি গবেষণা ও চিকিৎসায় উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি: দেশের স্বাস্থ্যখাতের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিতে উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করা হবে।
রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা: হাসপাতালে রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার নিষ্পত্তি: চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ বিএমডিসি আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে রোগীর অধিকার সংরক্ষণ করা হবে। বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিএমডিসি অফিস স্থাপন করে সারাদেশে চিকিৎসার মান তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
অটোমেশন চালু: রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সিরিয়াল, ভর্তি, অপারেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ প্রাপ্তিতে অটোমেশন চালু করা হবে।
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ: ৩০০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ (ইএমএল) নিয়ন্ত্রিত ও ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ করা হবে; ধাপে ধাপে তা ৫০০-তে উন্নীত করা হবে।
হাসপাতালে খাবারের গুণগতমান: হাসপাতালে রোগীদের খাবারের গুণগতমান প্রতি সপ্তাহে পরীক্ষা করা হবে।
মেডিকেল ট্যুরিজম ব্র্যান্ডিং: আন্তর্জাতিক মানের একাধিক মডেল হাসপাতাল চালু করে মেডিকেল ট্যুরিজমকে ব্র্যান্ডিং করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হবে।
জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন: দেশের জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ও সেবার গুণগত মান বাড়ানো হবে।
সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও ক্যান্সারসহ অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বনির্ভরতা: টিকাদান কর্মসূচিতে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা হবে।
রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ: প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা: মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ করে আসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ইডিসিএল-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি: সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
ওষুধের গ্রেডিং: ওষুধ কোম্পানি ও ওষুধকে গ্রেডিংয়ের আওতায় আনা হবে, যেখানে ওষুধের গুণগত মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জামায়াতে ইসলামী আশা প্রকাশ করেছে যে তাদের এই ৩৭ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সকল নাগরিক মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।