ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে বাড়ছে সংশয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনী বিশ্লেষকরা অভিযোগ করছেন, ইসির কতিপয় সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথকে সংকুচিত করছে, যা ভোটারদের আস্থা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হলে জনগণ কীভাবে নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগে ইসির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে, বিরোধী শিবির অভিযোগ করছে যে, ইসির কিছু সিদ্ধান্ত ক্ষমতাসীন দলের অনুকূলে যাচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, ইসির এমন একপেশে আচরণ নির্বাচনী মাঠকে অসমতল করে তুলছে, যা একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য অন্তরায়।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, ইসির প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেলে তা সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং ভোটারদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করতে পারে। তারা বলছেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ভূমিকা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ফোরামে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও, ইসির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা বা কার্যকর পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

যদিও নির্বাচন কমিশন বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে, তবে সমালোচকরা বলছেন, তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি নির্বাচনের আগেই নির্বাচনী মাঠ অসমতল হয়ে যায়, তবে জনগণের পক্ষে স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করা কঠিন হবে এবং এর ফলশ্রুতিতে একটি বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ইসির আরও সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে বাড়ছে সংশয়

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনী বিশ্লেষকরা অভিযোগ করছেন, ইসির কতিপয় সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথকে সংকুচিত করছে, যা ভোটারদের আস্থা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হলে জনগণ কীভাবে নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগে ইসির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে, বিরোধী শিবির অভিযোগ করছে যে, ইসির কিছু সিদ্ধান্ত ক্ষমতাসীন দলের অনুকূলে যাচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, ইসির এমন একপেশে আচরণ নির্বাচনী মাঠকে অসমতল করে তুলছে, যা একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য অন্তরায়।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, ইসির প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেলে তা সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং ভোটারদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করতে পারে। তারা বলছেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ভূমিকা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ফোরামে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও, ইসির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা বা কার্যকর পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

যদিও নির্বাচন কমিশন বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে, তবে সমালোচকরা বলছেন, তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি নির্বাচনের আগেই নির্বাচনী মাঠ অসমতল হয়ে যায়, তবে জনগণের পক্ষে স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করা কঠিন হবে এবং এর ফলশ্রুতিতে একটি বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ইসির আরও সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।