ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

জামায়াতের ১০ দফা: বেকারত্ব দূরীকরণে বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা যুব সমাজের বেকারত্ব দূরীকরণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি ১০ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হবে।

ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:

প্রথমত, দেশের প্রায় ৭ কোটি কর্মক্ষম যুবকের জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—দুটি ভাগে কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।

দ্বিতীয়ত, ‘দক্ষতা’ প্রকল্পের আওতায় জেলাভিত্তিক ‘হিউম্যান স্কিল ডেভেলপমেন্ট জোন (এসডিজেড)’ গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা হবে এবং এই প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বহন করা হবে।

তৃতীয়ত, দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণ (diversification) এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির নীতি প্রণয়ন করা হবে। এর পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সিড ক্যাপিটাল ফান্ড’ গঠন, ‘ইনোভেশন ইনকিউবেটর’ তৈরি, কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে সহায়তা, আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং কাজে প্রশিক্ষণ, সনদপত্র প্রদান এবং সহজে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বেকারত্বের হারকে একক অঙ্কে (single digit) নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চতুর্থত, কর্মক্ষম প্রতিটি নাগরিকের জন্য যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, চাকরি এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি জাতীয় ওয়ার্কফোর্স ডেটাবেজ তৈরি করা হবে।

পঞ্চমত, বিদেশে কর্মপ্রত্যাশী বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্বল্প খরচে বিদেশ গমনের জন্য আন্তঃসরকার চুক্তি সম্পাদন এবং বিদেশে যেতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে প্রতি বছর ৫০ লাখ যুবকের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

ষষ্ঠত, নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কর্মপরিবেশ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, মাতৃত্বকালীন সময়ে মায়েদের সম্মতি সাপেক্ষে কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সপ্তমত, সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য ফি নেওয়ার প্রথা বাতিল করা হবে।

অষ্টমত, চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অযাচিত সময়ক্ষেপণ বন্ধ করে দ্রুততম সময়ে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

নবমত, দ্রুত সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিশেষায়িত ক্যাডারগুলোর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

দশমত, ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

জামায়াতের ১০ দফা: বেকারত্ব দূরীকরণে বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৮:২৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা যুব সমাজের বেকারত্ব দূরীকরণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি ১০ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হবে।

ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:

প্রথমত, দেশের প্রায় ৭ কোটি কর্মক্ষম যুবকের জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—দুটি ভাগে কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।

দ্বিতীয়ত, ‘দক্ষতা’ প্রকল্পের আওতায় জেলাভিত্তিক ‘হিউম্যান স্কিল ডেভেলপমেন্ট জোন (এসডিজেড)’ গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা হবে এবং এই প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বহন করা হবে।

তৃতীয়ত, দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণ (diversification) এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির নীতি প্রণয়ন করা হবে। এর পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সিড ক্যাপিটাল ফান্ড’ গঠন, ‘ইনোভেশন ইনকিউবেটর’ তৈরি, কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে সহায়তা, আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং কাজে প্রশিক্ষণ, সনদপত্র প্রদান এবং সহজে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বেকারত্বের হারকে একক অঙ্কে (single digit) নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চতুর্থত, কর্মক্ষম প্রতিটি নাগরিকের জন্য যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, চাকরি এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি জাতীয় ওয়ার্কফোর্স ডেটাবেজ তৈরি করা হবে।

পঞ্চমত, বিদেশে কর্মপ্রত্যাশী বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্বল্প খরচে বিদেশ গমনের জন্য আন্তঃসরকার চুক্তি সম্পাদন এবং বিদেশে যেতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে প্রতি বছর ৫০ লাখ যুবকের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

ষষ্ঠত, নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কর্মপরিবেশ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, মাতৃত্বকালীন সময়ে মায়েদের সম্মতি সাপেক্ষে কর্মঘণ্টা ৫ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সপ্তমত, সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য ফি নেওয়ার প্রথা বাতিল করা হবে।

অষ্টমত, চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অযাচিত সময়ক্ষেপণ বন্ধ করে দ্রুততম সময়ে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

নবমত, দ্রুত সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিশেষায়িত ক্যাডারগুলোর জন্য পৃথক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

দশমত, ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণ করা হবে।