বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে। ‘জুলাই বিপ্লবের’ আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আট ভাগে বিভক্ত মোট ৪১ দফা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য শাসনতান্ত্রিক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তোলা।
দলটির ভিশনে সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘জুলাই বিপ্লবের’ আকাঙ্ক্ষা এবং ‘জুলাই সনদের’ আলোকে নতুন বাংলাদেশ গড়তে শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে জামায়াত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে যেসব আইন ও নীতিমালায় বৈষম্য বিদ্যমান, সেগুলো দ্রুত সংস্কার বা বাতিল করা হবে। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং সকল স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে।
তরুণদের দেশ পরিচালনায় সুযোগ দিতে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। শাসনক্ষমতাকে জনগণের পক্ষ থেকে একটি আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইশতেহারে নারীদের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিনিধি এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব মন্ত্রিসভায় নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
দেশের ৬৪টি জেলা শহর এবং ৫০০টি উপজেলা ও ছোট শহরকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকাকে একটি স্মার্ট রাজধানী এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রামকে যুগোপযোগী ও সুপরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহিতার পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকে একটি স্বাধীন জবাবদিহিমূলক কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে সংশ্লিষ্টরা তাদের কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন ও সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেবেন। উন্নয়ন পরিকল্পনা হবে দেশব্যাপী, সকলের অংশগ্রহণমূলক, টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং জনগণের মৌলিক প্রয়োজন ও ভবিষ্যতের লক্ষ্যভিত্তিক।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ভিশনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। যেকোনো স্তরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পদ্ধতিগত সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার রয়েছে। প্রশাসনের সকল স্তরে সেবাসমূহ ডিজিটালাইজ করে সরাসরি যোগাযোগ ও তদবির বন্ধ করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সংবলিত পাঠ্যক্রম যুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সৎ ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তরের সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্নীতির জন্য শাস্তি নিশ্চিতে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করার এবং দুর্নীতিবাজদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সিভিল সোসাইটিসমূহের ভূমিকা আরও সক্রিয় করতে আইনি ও নীতিগত সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও এমপিসহ সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণী জনসাধারণের সামনে পেশ করতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুর্নীতিরোধে সকল পর্যায়ের কাঠামোগত পর্যালোচনা করে দুর্নীতির সুযোগগুলোকে প্রতিরোধ করা হবে এবং বড় বড় দুর্নীতির উৎসসমূহ পর্যালোচনা করে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















