ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ক্যান্সারে বছরে ১.১৬ লাখ মৃত্যু, চিকিৎসা অপ্রতুল: জাতীয় কৌশল ও প্রতিরোধে জোর দেওয়ার তাগিদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার রোগী মারা যাচ্ছেন। এই বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের সামর্থ্য ও সক্ষমতা বর্তমানে অপ্রতুল। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৩০টি ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলেও সবগুলোতে প্রয়োজনীয় সকল পদ্ধতি চালু নেই। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং একটি সুসংহত জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র প্রণয়ন জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে বুধবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেজর হায়দার মিলনায়তনে ‘ক্যান্সার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘অনন্যতায় ঐকতান’ (United By Unique)। তাঁরা বলেন, ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিরোধমূলক উপাদানগুলো সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে এবং এর প্রাথমিক সাতটি সতর্ক সংকেত সম্পর্কেও অবহিত করা প্রয়োজন।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে একটি সার্বিক জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র, কর্ম পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি, যা বর্তমানে বাংলাদেশে অনুপস্থিত। ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের মেডিকেল কলেজগুলোতে চালু করা দরকার। এছাড়া, ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে গোপন ক্যান্সার রোগী খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি অর্থাৎ ক্যান্সার স্ক্রিনিং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ সংঘ (আইএআরসি) ২০২৫ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য ‘অনন্যতায় ঐকতান’ প্রতিপাদ্যটি নির্ধারণ করেছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ক্যান্সার রোগীর অভিজ্ঞতা স্বতন্ত্র ও অনন্য। তাদের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা, সমবেদনা ও গল্প আলাদা। এই ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রোগটিকে নয়, বরং রোগে আক্রান্ত মানুষটিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থলে জনসাধারণকে স্থাপন করে সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

ডা. রাসকিন আরও বলেন, ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে একটি জাতীয় কৌশলপত্র, কর্ম পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন অপরিহার্য। পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উপজেলা পর্যন্ত ক্যান্সার স্ক্রিনিং পদ্ধতি বিস্তৃত করা দরকার। সভায় বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাঈদ উজ- জামান অপু, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মোশাররফ সৌরভ, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ হুমায়ন কবির, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাশহুদা খাতুন শেফালী, হীলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেসা, গণস্বাস্থ্য বেসিক কেমিকেলস্ লিমিটেডের এমডি এবিএম জামাল উদ্দিন আহমেদ, সিওসি ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও প্রধান নির্বাহী ইকবাল মাহমুদ, রোটারিয়ান সৈয়দ আফতাবুজ্জামান ও সিনিয়র সাংবাদিক নাদিরা কিরণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ, গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এমডি ডা. মনজুর কাদির আহমেদ, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের।

অনুষ্ঠানে ফোরামের পক্ষ থেকে ১০ জন সাংবাদিককে ক্যান্সার প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সহযোদ্ধা হিসেবে কৃতজ্ঞতা স্মারক উপহার দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে উপস্থিত ৮ জন অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আমৃত্যু ক্যান্সার সচেতনতার কাজে ডা. রাসকিনের নেতৃত্বে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

ক্যান্সারে বছরে ১.১৬ লাখ মৃত্যু, চিকিৎসা অপ্রতুল: জাতীয় কৌশল ও প্রতিরোধে জোর দেওয়ার তাগিদ

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার রোগী মারা যাচ্ছেন। এই বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের সামর্থ্য ও সক্ষমতা বর্তমানে অপ্রতুল। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৩০টি ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলেও সবগুলোতে প্রয়োজনীয় সকল পদ্ধতি চালু নেই। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং একটি সুসংহত জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র প্রণয়ন জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে বুধবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেজর হায়দার মিলনায়তনে ‘ক্যান্সার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘অনন্যতায় ঐকতান’ (United By Unique)। তাঁরা বলেন, ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিরোধমূলক উপাদানগুলো সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে এবং এর প্রাথমিক সাতটি সতর্ক সংকেত সম্পর্কেও অবহিত করা প্রয়োজন।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে একটি সার্বিক জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র, কর্ম পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি, যা বর্তমানে বাংলাদেশে অনুপস্থিত। ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের মেডিকেল কলেজগুলোতে চালু করা দরকার। এছাড়া, ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে গোপন ক্যান্সার রোগী খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি অর্থাৎ ক্যান্সার স্ক্রিনিং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ সংঘ (আইএআরসি) ২০২৫ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য ‘অনন্যতায় ঐকতান’ প্রতিপাদ্যটি নির্ধারণ করেছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ক্যান্সার রোগীর অভিজ্ঞতা স্বতন্ত্র ও অনন্য। তাদের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা, সমবেদনা ও গল্প আলাদা। এই ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রোগটিকে নয়, বরং রোগে আক্রান্ত মানুষটিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থলে জনসাধারণকে স্থাপন করে সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

ডা. রাসকিন আরও বলেন, ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে একটি জাতীয় কৌশলপত্র, কর্ম পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন অপরিহার্য। পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উপজেলা পর্যন্ত ক্যান্সার স্ক্রিনিং পদ্ধতি বিস্তৃত করা দরকার। সভায় বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাঈদ উজ- জামান অপু, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মোশাররফ সৌরভ, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ হুমায়ন কবির, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাশহুদা খাতুন শেফালী, হীলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেসা, গণস্বাস্থ্য বেসিক কেমিকেলস্ লিমিটেডের এমডি এবিএম জামাল উদ্দিন আহমেদ, সিওসি ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও প্রধান নির্বাহী ইকবাল মাহমুদ, রোটারিয়ান সৈয়দ আফতাবুজ্জামান ও সিনিয়র সাংবাদিক নাদিরা কিরণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ, গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এমডি ডা. মনজুর কাদির আহমেদ, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের।

অনুষ্ঠানে ফোরামের পক্ষ থেকে ১০ জন সাংবাদিককে ক্যান্সার প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সহযোদ্ধা হিসেবে কৃতজ্ঞতা স্মারক উপহার দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে উপস্থিত ৮ জন অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আমৃত্যু ক্যান্সার সচেতনতার কাজে ডা. রাসকিনের নেতৃত্বে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।