ঢাকা ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সহিংসতায় নিহত ৫, আহত ৯৭০: মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশজুড়ে নির্বাচনী সহিংসতায় অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৯৭০ জনেরও বেশি মানুষ। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, দেড় শতাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং জেলা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পূর্ব সহিংসতার প্রতিবেদন’টি তৈরি করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সংঘটিত নির্বাচনী সহিংসতার চিত্র এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই সময়ে মোট ১৬২টি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব সহিংসতার অধিকাংশ ঘটেছে দলীয় কোন্দল ও অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে। এতে নিহত পাঁচজনের মধ্যে বিএনপির তিনজন, জামায়াতে ইসলামীর একজন এবং ইনকিলাব মঞ্চের একজন কর্মী রয়েছেন। এছাড়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত ও বঞ্চিত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে সহিংসতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, ১৬২টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলজনিত ৪০টি ঘটনায় তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩৩৪ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ৫০টি সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৫৬০ জন আহত হন। এছাড়া, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে দুটি সংঘর্ষে দুইজন, বিএনপি ও এনসিপি’র মধ্যে আটটি সংঘর্ষে ৩৯ জন এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে আটটি সংঘর্ষে ৩২ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দলের মধ্যে আরও দুটি ঘটনায় তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রচারণার সময়ে নারী সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অন্তত ১২টি ঘটনায় ১৮ জন নারী হেনস্তা ও ৬ জন নারী আহত হয়েছেন। হেনস্তার শিকার নারীদের মধ্যে ১৭ জন জামায়াত সমর্থক এবং একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থক। এসব ঘটনার মধ্যে ১১টিতে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং একটিতে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

ভোটারদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২৫টি ঘটনায় ৩৪ জনকে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ঘটনায় বিএনপি, একটিতে জামায়াত এবং নয়টি ঘটনায় অন্যান্য দল ও প্রার্থীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার মধ্যে ১৭টি হুমকি এবং ৮টি হামলার ঘটনা ছিল।

দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার বিষয়ে এইচআরএসএস জানিয়েছে, সারা দেশে প্রচার-প্রচারণার সময় ১৩টি পৃথক ঘটনায় ১৩ জন প্রার্থী বিভিন্নভাবে হেনস্তা, লাঞ্ছনা ও হামলার শিকার হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এইচআরএসএস-এর প্রধান উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী মো. নূর খান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার আব্দুল কাদিরসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সহিংসতায় নিহত ৫, আহত ৯৭০: মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন

আপডেট সময় : ০৬:০৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশজুড়ে নির্বাচনী সহিংসতায় অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৯৭০ জনেরও বেশি মানুষ। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, দেড় শতাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং জেলা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পূর্ব সহিংসতার প্রতিবেদন’টি তৈরি করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সংঘটিত নির্বাচনী সহিংসতার চিত্র এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই সময়ে মোট ১৬২টি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব সহিংসতার অধিকাংশ ঘটেছে দলীয় কোন্দল ও অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে। এতে নিহত পাঁচজনের মধ্যে বিএনপির তিনজন, জামায়াতে ইসলামীর একজন এবং ইনকিলাব মঞ্চের একজন কর্মী রয়েছেন। এছাড়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত ও বঞ্চিত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে সহিংসতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, ১৬২টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলজনিত ৪০টি ঘটনায় তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩৩৪ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ৫০টি সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৫৬০ জন আহত হন। এছাড়া, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে দুটি সংঘর্ষে দুইজন, বিএনপি ও এনসিপি’র মধ্যে আটটি সংঘর্ষে ৩৯ জন এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে আটটি সংঘর্ষে ৩২ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দলের মধ্যে আরও দুটি ঘটনায় তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রচারণার সময়ে নারী সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অন্তত ১২টি ঘটনায় ১৮ জন নারী হেনস্তা ও ৬ জন নারী আহত হয়েছেন। হেনস্তার শিকার নারীদের মধ্যে ১৭ জন জামায়াত সমর্থক এবং একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থক। এসব ঘটনার মধ্যে ১১টিতে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং একটিতে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

ভোটারদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২৫টি ঘটনায় ৩৪ জনকে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ঘটনায় বিএনপি, একটিতে জামায়াত এবং নয়টি ঘটনায় অন্যান্য দল ও প্রার্থীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার মধ্যে ১৭টি হুমকি এবং ৮টি হামলার ঘটনা ছিল।

দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার বিষয়ে এইচআরএসএস জানিয়েছে, সারা দেশে প্রচার-প্রচারণার সময় ১৩টি পৃথক ঘটনায় ১৩ জন প্রার্থী বিভিন্নভাবে হেনস্তা, লাঞ্ছনা ও হামলার শিকার হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এইচআরএসএস-এর প্রধান উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী মো. নূর খান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার আব্দুল কাদিরসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।