ঢাকা ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

শালুকপুরে নির্বাচনী সহিংসতা: প্রার্থীর মৃত্যু, স্থগিত উপজেলা নির্বাচন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

শালুকপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চলমান সহিংসতা চরমে পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগে একজন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর পর এবার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজুর রহমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন শালুকপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার রাতে শালুকপুর উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শেষে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজুর রহমান (৫৫)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শালুকপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মফিজুর রহমানের সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে এই একই উপজেলায় নির্বাচনী সংঘর্ষে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা আব্দুল কাদির (৪৫) নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। পরপর দুটি প্রাণহানির ঘটনা পুরো শালুকপুর উপজেলায় গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সচিবালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শালুকপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির আশঙ্কায় নির্বাচনটি স্থগিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ না থাকায় এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক এক বিবৃতিতে নিহত প্রার্থীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

শালুকপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছিল। কিন্তু পরপর দুটি প্রাণহানির ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কবে নাগাদ এই নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে এবং কীভাবে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

শালুকপুরে নির্বাচনী সহিংসতা: প্রার্থীর মৃত্যু, স্থগিত উপজেলা নির্বাচন

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শালুকপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চলমান সহিংসতা চরমে পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগে একজন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর পর এবার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজুর রহমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন শালুকপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার রাতে শালুকপুর উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শেষে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজুর রহমান (৫৫)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শালুকপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মফিজুর রহমানের সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে এই একই উপজেলায় নির্বাচনী সংঘর্ষে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা আব্দুল কাদির (৪৫) নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। পরপর দুটি প্রাণহানির ঘটনা পুরো শালুকপুর উপজেলায় গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সচিবালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শালুকপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির আশঙ্কায় নির্বাচনটি স্থগিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ না থাকায় এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক এক বিবৃতিতে নিহত প্রার্থীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

শালুকপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছিল। কিন্তু পরপর দুটি প্রাণহানির ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কবে নাগাদ এই নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে এবং কীভাবে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।