আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। সম্প্রতি এক গণসংযোগকালে তিনি জামায়াতকে ‘পরীক্ষিত বেইমান’ আখ্যা দিয়ে তাদের বর্তমান কার্যকলাপের তীব্র সমালোচনা করেন। সালাম বলেন, জামায়াতের এই অস্থিরতা প্রমাণ করে যে তাদের সামনে বেশি সময় নেই এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে এক গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আবদুস সালাম জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে বলেন, এখন ধৈর্য ধরার সময়। আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত তাদের ধৈর্য ধরে থাকতে হবে, অন্যথায় ১২ তারিখের পর তাদের শুয়ে পড়তে হতে পারে। তিনি আরও বলেন, যদি বেশি অধৈর্য হন তাহলে এখনই বসে যান।
গতকালের একটি ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ উল্লেখ করে আবদুস সালাম এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে জামায়াতের প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। তারা এখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে গ্রহণ করতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল এবং এখনো তারা সেই পাকিস্তানি ভাবধারায় রয়েছে। সেনাবাহিনী সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য ও সমালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ওই বক্তব্যে অকারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম টেনে আনা হয়েছে। তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত হতে জামায়াতের প্রার্থীরা বেশি আগ্রহী বলেই মনে হয়।
আবদুস সালাম জোর দিয়ে বলেন, তারেক রহমান কোনো একক দলের নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের নেতা। একসময় এই দেশের নেতা ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাঁর অবর্তমানে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। আর এখন দেশের মানুষ যাঁকে গ্রহণ করেছে, তিনি তারেক রহমান। কিছু সাংবাদিক ও মহল জামায়াতকে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তারেক রহমানের বিষয়ে কথা বলার সময় সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, বিএনপি জামায়াতের আমির সম্পর্কেও সম্মান রেখেই কথা বলে। এমনকি নারীদের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থানের সমালোচনা করা হলেও সেটিও সম্মানের সঙ্গেই করা হয়।
তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ইনশাআল্লাহ তারেক রহমান আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। দেশকে বাঁচাতে হলে এবং রক্ষা করতে হলে তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। জামায়াত দেশকে আফগানিস্তান বা ফিলিস্তিনের মতো পরিস্থিতিতে নিয়ে যেতে চায় অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা নারীর সম্মানের কথা বললেও একটি আসনেও নারী প্রার্থী দেয়নি। বরং নারীদের ঘরের ভেতরে রাখতে চায়, অথচ দেশের অর্ধেক ভোটার নারী। সালাম আরও বলেন, নারীরা সবসময় বিএনপিকে ভোট দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে। নারীদের চাকরি ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হলে বিএনপি ছাড়া বিকল্প নেই। জামায়াত ক্ষমতায় এলে ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ ফিরে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতকে ‘পরীক্ষিত বেইমান’ আখ্যা দিয়ে আবদুস সালাম তাদের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান হওয়ার সময় তারা পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছে, আবার বাংলাদেশ হওয়ার সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে। শুধু বিরুদ্ধেই নয়, বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে। নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও কারচুপি হতে দেওয়া যাবে না। বিএনপি কোনো গোপন দল নয়, এটি একটি প্রকাশ্য ও গণতান্ত্রিক দল।
আগামী ১২ তারিখ জনগণের ভোটে একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হলে দেশ স্থিতিশীল হবে বলে আশাবাদ জানান আবদুস সালাম। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, তাবিদ আউয়ালসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।
রিপোর্টারের নাম 






















