দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের উপর হামলা ও হয়রানির ঘটনার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী ছাত্র সংগঠনটির মহিলা বিষয়ক কর্মীরা।
বুধবার সকালে ঢাকা-৪ আসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত একটি মিছিল রাজধানীর ধোলাইপাড় চৌরাস্তা থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে এক সমাবেশে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেন, যারা দেশের বাইরে পালিয়ে ছিলেন, তারাই এখন গুপ্ত হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন। তারা দাবি করেন, সংগঠনটির কোনো নেতাকর্মী বিদেশে পালিয়ে যাননি, বরং জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তারা নিয়োজিত ছিলেন। এই আন্দোলনে সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা এবং অগণিত কর্মী আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর যারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন, তারাই প্রকৃত গুপ্ত।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সংগঠনটিকে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে বাধা দেওয়া হলেও তারা তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন এবং জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। দেশের জনগণ দেখেছে কারা জনগণের পাশে ছিল এবং কারা দেশের বাইরে আশ্রয় নিয়েছিল।
সংগঠনটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, যারা সংগঠনটিতে নারী কর্মীর অভাবের কথা বলে, তারা সংগঠনটির নারী কর্মীদের দেখলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে। কারণ সংগঠনটির নারী শাখা অত্যন্ত বৃহৎ ও শক্তিশালী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারীদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের সম্মানহানি করা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের কর্মীরা নারীদের সাথে এমন অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে যা উচ্চারণ করাও অনুচিত। দুঃখজনকভাবে, বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যা প্রমাণ করে দলটি সামগ্রিকভাবে নারীদের অধিকার হরণের মিশনে নেমেছে।
বক্তারা সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, নারী সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসন পরিচালিকা রাবেয়া খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারি সেক্রেটারি ডা. শিরিন আক্তার রুনা এবং মহানগরীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য তানহা আজমি। এছাড়াও, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসন সদস্য সচিব নার্গিস খান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তারসহ বিভিন্ন থানার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















