ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের অধিকাংশ নেতা বর্তমানে আত্মগোপনে কিংবা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিবেশী দেশ ভারতে অবস্থান করে দলটি পুনরায় সংগঠিত হওয়ার এবং রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনা করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তিনি দলের বিশ্বস্ত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং আগামী দিনে দলের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের কৌশল নির্ধারণ করছেন। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গোপন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, আওয়ামী লীগের বর্তমান কৌশল হলো বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে উদ্ভূত সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা বা জনঅসন্তোষকে পুঁজি করা। দলটি মনে করছে, বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রশাসনিক বা অর্থনৈতিক কোনো ব্যর্থতা দেখা দিলে তারা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুনরায় জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করবে। এছাড়া, আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফেরার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন। তারা বাংলাদেশে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর চলমান আইনি ব্যবস্থা ও মামলার বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার কৌশল নিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে বর্তমান জনআবেগের যে চিত্র, তাতে আওয়ামী লীগের জন্য এই মুহূর্তে সরাসরি রাজনীতিতে ফেরা অত্যন্ত চ্যলেঞ্জিং বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দলটির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে রেখেছে।
এদিকে, দেশের ভেতরে থাকা দলটির নিচুতলার অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে নেতৃত্বহীনতায় ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা গ্রেফতার এড়াতে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে আসা নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই দলটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগের এই ধরনের তৎপরতাকে কীভাবে মোকাবিলা করবে, তার ওপরই নির্ভর করছে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গতিপথ।
রিপোর্টারের নাম 





















