বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ভুয়া ব্যালট পেপার ও সিল ছাপানোর মাধ্যমে জনমতকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, যারা নতুন ‘জালেম’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তারা পর্দার আড়ালে থেকে কারচুপির নীল নকশা তৈরি করছে।
বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরের বান্দ রোডের বেলস পার্কে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দেখা যাচ্ছে, জনবিচ্ছিন্ন একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন প্রেসে ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে, যা তারা নির্বাচনের দিন পকেটে করে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। শুধু তাই নয়, তারা সাধারণ মানুষের বিশেষ করে নারী ভোটারদের এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। যারা নির্বাচনের আগেই এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তারা কখনোই দেশে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করতে পারবে না।”
প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, অনৈতিক কাজের মাধ্যমে মানুষের ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যখন তাদের এসব অপকর্ম ধরা পড়ছে, তখন তারা ‘আইডি হ্যাক’ হওয়ার মতো খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছে। অথচ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের কোনো আইডি হ্যাক হয়নি। সত্য আড়াল করতেই তারা মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।
দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “জনগণ পাশে না থাকলে কী পরিণতি হয়, তা গত ৫ আগস্ট এ দেশের মানুষ দেখেছে। তাই নির্বাচিত হলে আগামী ৫ বছর জনগণের সেবক হয়ে তাদের পাশে থাকতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই হবে রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে বিএনপির ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেই দেশে প্রথম মেয়েদের জন্য উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন তারেক রহমান। সেখানে তাকে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৬ সালে তিনি যখন বরিশাল সফর করেছিলেন, তখন তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর দলীয় প্রধান হিসেবে তার এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তার আগমন উপলক্ষে নগরীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















