বিতর্কিত মার্কিন ধনকুবের এবং যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি জনসমক্ষে আসা কয়েকশ পৃষ্ঠার অত্যন্ত স্পর্শকাতর নথিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় তার নাম দেখা গেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, এপস্টাইনের ব্যক্তিগত ডায়েরি, যাতায়াতের তালিকা বা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের নথিতে শেখ হাসিনার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জেফরি এপস্টাইন তার জীবদ্দশায় বিশ্বের ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং তাদের নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্কিত সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই তালিকায় বাংলাদেশের সাবেক সরকার প্রধানের নাম পাওয়া যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উন্মোচন করা এসব নথিতে দেখা যায়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মিলনমেলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে এপস্টাইনের যোগাযোগের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। যদিও নথিতে সরাসরি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি, তবে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধীর ব্যক্তিগত নথিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকাটা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টাইন মামলার এসব নথি বিশ্বজুড়ে অনেক রাঘববোয়ালের মুখোশ উন্মোচন করেছে। ইতিপূর্বে বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মতো বিশ্বনেতাদের নাম এই তালিকায় আসলেও এবার দক্ষিণ এশিয়ার একজন শীর্ষ নেত্রীর নাম যুক্ত হওয়াকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কারাগারে বন্দি অবস্থায় জেফরি এপস্টাইনের রহস্যজনক মৃত্যুর পর তার বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্তের অনেক তথ্যই গোপন রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগের নির্দেশে সেই নথিগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হচ্ছে, যার ধারাবাহিকতায় এই নতুন তথ্যটি সামনে এলো।
রিপোর্টারের নাম 





















