ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ‘কারচুপির অপচেষ্টা’ চলছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনসিপির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ‘নির্বাচন প্রকৌশলের’ মাধ্যমে কারচুপির অপতৎপরতা চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং ‘নির্বাচন প্রকৌশলের’ অপতৎপরতা আমরা সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি।” মনিরা শারমিন আরও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, প্রশাসনসহ দেশের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে। তিনি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের বৃহত্তর ভূমিকা পালনের কথা থাকলেও, তারা তা করছে না এবং একটি দলকে নির্বাচিত করার জন্য সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন।

এনসিপির মুখপাত্র এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “যখন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রিজাইডিং অফিসাররা দায়িত্বে থাকবেন, তখন স্পষ্টতই এই নির্বাচনটি একটি কারচুপির নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এটি একটি ইঞ্জিনিয়ারিং করার মানসিকতা।” যারা এ ধরনের কাজে সহযোগিতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। অন্যথায়, এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সজীব ভূঁইয়া।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সাংবাদিকদের দেওয়া লিখিত বার্তায় এনসিপি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে তাদের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাস, হামলা, ভয়ভীতি ও হুমকির ঘটনা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশকে চরমভাবে বিপন্ন করে তুলেছে।

লিখিত বার্তায় এনসিপি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট হামলার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে:
গত ২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা-৪ আসনের দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এনসিপি প্রতিনিধি মোহাম্মদ কাওসার আলমকে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে যায়। একই দিনে বিকেলে এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনী পোস্টার পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এর আগের দিন, ১ ফেব্রুয়ারি রাতে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার গোয়ালিমারা গ্রামে উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক লুতফুর রহমান মামুনের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে।
গত ২৯ জানুয়ারি নরসিংদী-২ আসনের আমদিয়া ইউনিয়নের কান্দাইল বাজারে অবস্থিত এনসিপির নির্বাচনী ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, পোস্টার ও ব্যানার ভাঙচুর করা হয় এবং উপস্থিত কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে একটি পরিবারের ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং ছয়জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

সহিংসতার পাশাপাশি ‘ভোট কেনাবেচার হাট’ চলছে বলেও অভিযোগ করে এনসিপি। দলের নেতারা দাবি করেন, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয়জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ সময় জব্দ করা হিসাবের খাতায় কোন এলাকায়, কোন তারিখে, কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।

এনসিপি আরও অভিযোগ করে যে, বিএনপি একদিকে সন্ত্রাস ও ভোট কেনাবেচা করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা দেখাচ্ছে। মনিরা শারমিন অভিযোগ করে বলেন, পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে এবং বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন—’না ভোট মানে স্বাধীনতার পক্ষে’। অথচ বিএনপি চেয়ারপার্সন নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পরও তৃণমূল বিএনপি ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের এই দ্বিমুখী অবস্থান জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। কক্সবাজার-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী প্রকাশ্যে বলেছেন, আওয়ামী লীগসহ সবাইকে নিয়ে নির্বাচন হওয়া উচিত এবং আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন থাকবে। এনসিপি মনে করে, এই বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান কতটা অস্পষ্ট ও সুবিধাবাদী, তা প্রমাণ করে।

এছাড়াও, ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের বিষয়টি উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলেও, প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তার প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে বলে মনিরা শারমিন অভিযোগ করেন।

লিখিত বার্তায় এনসিপি স্পষ্টভাবে জানায়, এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষণ নয়। তারা অবিলম্বে বিএনপির সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ, সকল হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন এবং সহিংসতা, ভোট কেনাবেচা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের দাবি জানায়। এনসিপি শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাসী হলেও, গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না বলে ঘোষণা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম, নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহবুব আলম এবং দলের যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হুসাইন প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ‘কারচুপির অপচেষ্টা’ চলছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনসিপির

আপডেট সময় : ১০:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ‘নির্বাচন প্রকৌশলের’ মাধ্যমে কারচুপির অপতৎপরতা চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং ‘নির্বাচন প্রকৌশলের’ অপতৎপরতা আমরা সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি।” মনিরা শারমিন আরও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, প্রশাসনসহ দেশের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে। তিনি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের বৃহত্তর ভূমিকা পালনের কথা থাকলেও, তারা তা করছে না এবং একটি দলকে নির্বাচিত করার জন্য সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন।

এনসিপির মুখপাত্র এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “যখন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রিজাইডিং অফিসাররা দায়িত্বে থাকবেন, তখন স্পষ্টতই এই নির্বাচনটি একটি কারচুপির নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এটি একটি ইঞ্জিনিয়ারিং করার মানসিকতা।” যারা এ ধরনের কাজে সহযোগিতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। অন্যথায়, এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সজীব ভূঁইয়া।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সাংবাদিকদের দেওয়া লিখিত বার্তায় এনসিপি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে তাদের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাস, হামলা, ভয়ভীতি ও হুমকির ঘটনা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশকে চরমভাবে বিপন্ন করে তুলেছে।

লিখিত বার্তায় এনসিপি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট হামলার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে:
গত ২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা-৪ আসনের দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এনসিপি প্রতিনিধি মোহাম্মদ কাওসার আলমকে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে যায়। একই দিনে বিকেলে এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনী পোস্টার পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এর আগের দিন, ১ ফেব্রুয়ারি রাতে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার গোয়ালিমারা গ্রামে উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক লুতফুর রহমান মামুনের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে।
গত ২৯ জানুয়ারি নরসিংদী-২ আসনের আমদিয়া ইউনিয়নের কান্দাইল বাজারে অবস্থিত এনসিপির নির্বাচনী ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, পোস্টার ও ব্যানার ভাঙচুর করা হয় এবং উপস্থিত কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে একটি পরিবারের ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং ছয়জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

সহিংসতার পাশাপাশি ‘ভোট কেনাবেচার হাট’ চলছে বলেও অভিযোগ করে এনসিপি। দলের নেতারা দাবি করেন, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয়জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ সময় জব্দ করা হিসাবের খাতায় কোন এলাকায়, কোন তারিখে, কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।

এনসিপি আরও অভিযোগ করে যে, বিএনপি একদিকে সন্ত্রাস ও ভোট কেনাবেচা করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা দেখাচ্ছে। মনিরা শারমিন অভিযোগ করে বলেন, পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে এবং বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন—’না ভোট মানে স্বাধীনতার পক্ষে’। অথচ বিএনপি চেয়ারপার্সন নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পরও তৃণমূল বিএনপি ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের এই দ্বিমুখী অবস্থান জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। কক্সবাজার-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী প্রকাশ্যে বলেছেন, আওয়ামী লীগসহ সবাইকে নিয়ে নির্বাচন হওয়া উচিত এবং আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন থাকবে। এনসিপি মনে করে, এই বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান কতটা অস্পষ্ট ও সুবিধাবাদী, তা প্রমাণ করে।

এছাড়াও, ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের বিষয়টি উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলেও, প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তার প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে বলে মনিরা শারমিন অভিযোগ করেন।

লিখিত বার্তায় এনসিপি স্পষ্টভাবে জানায়, এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষণ নয়। তারা অবিলম্বে বিএনপির সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ, সকল হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন এবং সহিংসতা, ভোট কেনাবেচা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের দাবি জানায়। এনসিপি শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাসী হলেও, গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না বলে ঘোষণা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম, নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহবুব আলম এবং দলের যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হুসাইন প্রমুখ।