মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান অধ্যায়, মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার নতুন অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা একাত্তরে বাংলাদেশের পতনের পক্ষে ছিলেন, তাদের পক্ষে মেজর জিয়ার ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা মেনে নেওয়া কঠিন। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, মেজর জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক—এটি একটি মীমাংসিত সত্য। কাদের গনি চৌধুরীর মতে, আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের এই অবদানকে খাটো করতে চেয়েছিল, কারণ তাদের শীর্ষ নেতারা সে সময় স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। বর্তমানেও কেউ কেউ আওয়ামী লীগের আদলে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বিদ্রোহের ডাককে বিকৃত করার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘হৃদয়ে জিয়া পরিবার’ আয়োজিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের চরম সংকটকালে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে জাতিকে রক্ষা করেছিলেন। জাতির প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে তিনি নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন। তিনি অসীম সাহসিকতা, দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং দেশপ্রেম নিয়ে সময়ের প্রয়োজনে আলোর দিশা দেখিয়েছেন।
সাংবাদিক নেতা হিসেবে তিনি বলেন, জাতি হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, এবং এই স্বাধীনতার ইতিহাসে মেজর জিয়াউর রহমানের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত জাতির ওপর হিংস্র বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যার ফলে অগণিত নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
তিনি আরও বলেন, যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল দুর্বল এবং জাতি ছিল অপ্রস্তুত ও অসংগঠিত, ঠিক সেই মুহূর্তে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসে এক বজ্রকণ্ঠ—‘আমি মেজর জিয়া বলছি’। এই ঘোষণা জাতিকে নতুনভাবে উদ্দীপ্ত করেছিল।
কাদের গনি চৌধুরী উল্লেখ করেন, যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন সৈনিক জিয়া হাল ধরেন। তিনি আশাহত ও শঙ্কিত জাতিকে আশার আলো দেখান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জিয়াউর রহমান বাঙালি সৈন্যদের একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সকল সদস্যকে একত্রিত করে প্রথম বিদ্রোহের ডাক তিনিই দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই প্রতিরোধ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি সকল ক্যান্টনমেন্টের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং বাঙালি সেনাদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেন।
অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং জুনায়েদ আবরারের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মহসিন, প্রফেসর শাহ আলম, মহিউদ্দিন মুনির এবং মাসুদ রানা প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 





















