ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরকে আধুনিক শিল্পাঞ্চল ঘোষণা ও বেতন বৈষম্য নিরসনের অঙ্গীকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাদের দল ক্ষমতায় আসলে গাজীপুরকে একটি আধুনিক শিল্প এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং শিল্প কারখানায় নারী-পুরুষ শ্রমিকের বেতন বৈষম্য দূর করা হবে। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরে ১১ দলীয় জোটের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অঙ্গীকার করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও এখানে শ্রমিকদের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে। ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে এই শিল্পাঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে একটি আধুনিক রূপ দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “শিল্প কারখানাগুলোতে নারী-পুরুষ শ্রমিকের বেতন সমান করে বৈষম্য দূর করা হবে। এছাড়া, প্রসূতি মায়েরা যাতে সন্তান লালন-পালনের সময় কর্মস্থলে অতিরিক্ত সুবিধা পান, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দুই থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত মায়েরা কর্মস্থলে পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবেন এবং বাকি তিন ঘণ্টা তারা সন্তানকে সময় দেবেন। এই অতিরিক্ত সময়ের বেতন সরকার সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রদান করবে, যা একটি সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুর জন্য জরুরি।” তিনি আরও জানান, শিল্প কারখানাগুলোতে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের বিষয়েও নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এই জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আপামর জনসাধারণের সুবিধার্থে উন্নয়ন করা হবে, কোনো জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হবে না। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়াই তাদের লক্ষ্য।” তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের অভাব নেই উল্লেখ করে বলেন, “দেশের বাইরে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে এবং তা জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।”

তিনি দেশের ঋণ খেলাপিদের সমালোচনা করে বলেন, “যারা দেশের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করলেও কিছু দল ঋণ খেলাপিদের নিয়ে নির্বাচন করছে, যা তাদের অঙ্গীকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমরা কোনো দলীয়, পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত সরকার দেখতে চাই না, যারা দেশে ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, ব্যাংক ডাকাতি ও শেয়ার মার্কেট লুট করেছে।” তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “তারা ক্ষমতায় গেলে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করবে, যেখানে কেউ নিরাপদে থাকতে পারবে না।” তিনি বলেন, “আমাদের আওয়াজ হলো শান্তির, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সততার, বেকারত্বের বিরুদ্ধে কাজের এবং লুটপাটের বিরুদ্ধে সম্পদের পাহাড় গড়ির।”

জনসভায় গাজীপুর-১ আসনে শাহ আলম বকশি (দাঁড়ি পাল্লা), গাজীপুর-২ আসনে অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান (শাপলা কলি), গাজীপুর-৩ আসনে মাওলানা এহসানুল হক (রিকশা প্রতীক), গাজীপুর-৪ আসনে সালাউদ্দিন আইউবী (দাঁড়ি পাল্লা), গাজীপুর-৫ আসনে খায়রুল হাসান (দাঁড়ি পাল্লা) এবং নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী সারোয়ার তুষারকে (শাপলা কলি) জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আ স ম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যায়নুল আবেদীন, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য খায়রুল হাসান, মো. হোসেন আলী, সালাউদ্দিন আইউবী, অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

গাজীপুরকে আধুনিক শিল্পাঞ্চল ঘোষণা ও বেতন বৈষম্য নিরসনের অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৯:১০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাদের দল ক্ষমতায় আসলে গাজীপুরকে একটি আধুনিক শিল্প এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং শিল্প কারখানায় নারী-পুরুষ শ্রমিকের বেতন বৈষম্য দূর করা হবে। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরে ১১ দলীয় জোটের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অঙ্গীকার করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও এখানে শ্রমিকদের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে। ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে এই শিল্পাঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে একটি আধুনিক রূপ দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “শিল্প কারখানাগুলোতে নারী-পুরুষ শ্রমিকের বেতন সমান করে বৈষম্য দূর করা হবে। এছাড়া, প্রসূতি মায়েরা যাতে সন্তান লালন-পালনের সময় কর্মস্থলে অতিরিক্ত সুবিধা পান, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দুই থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত মায়েরা কর্মস্থলে পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবেন এবং বাকি তিন ঘণ্টা তারা সন্তানকে সময় দেবেন। এই অতিরিক্ত সময়ের বেতন সরকার সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রদান করবে, যা একটি সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুর জন্য জরুরি।” তিনি আরও জানান, শিল্প কারখানাগুলোতে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের বিষয়েও নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এই জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আপামর জনসাধারণের সুবিধার্থে উন্নয়ন করা হবে, কোনো জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হবে না। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়াই তাদের লক্ষ্য।” তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের অভাব নেই উল্লেখ করে বলেন, “দেশের বাইরে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে এবং তা জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।”

তিনি দেশের ঋণ খেলাপিদের সমালোচনা করে বলেন, “যারা দেশের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করলেও কিছু দল ঋণ খেলাপিদের নিয়ে নির্বাচন করছে, যা তাদের অঙ্গীকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমরা কোনো দলীয়, পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত সরকার দেখতে চাই না, যারা দেশে ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, ব্যাংক ডাকাতি ও শেয়ার মার্কেট লুট করেছে।” তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “তারা ক্ষমতায় গেলে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করবে, যেখানে কেউ নিরাপদে থাকতে পারবে না।” তিনি বলেন, “আমাদের আওয়াজ হলো শান্তির, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সততার, বেকারত্বের বিরুদ্ধে কাজের এবং লুটপাটের বিরুদ্ধে সম্পদের পাহাড় গড়ির।”

জনসভায় গাজীপুর-১ আসনে শাহ আলম বকশি (দাঁড়ি পাল্লা), গাজীপুর-২ আসনে অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান (শাপলা কলি), গাজীপুর-৩ আসনে মাওলানা এহসানুল হক (রিকশা প্রতীক), গাজীপুর-৪ আসনে সালাউদ্দিন আইউবী (দাঁড়ি পাল্লা), গাজীপুর-৫ আসনে খায়রুল হাসান (দাঁড়ি পাল্লা) এবং নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী সারোয়ার তুষারকে (শাপলা কলি) জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আ স ম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যায়নুল আবেদীন, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য খায়রুল হাসান, মো. হোসেন আলী, সালাউদ্দিন আইউবী, অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।