আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেশী ভারত সরকারের প্রতি একটি কড়া বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। একই সাথে তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। সম্প্রতি ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে এই অবস্থান জানানো হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভারত যেন তার আঞ্চলিক নীতি ও অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো এমনভাবে পরিচালনা করে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত না করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রকার বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। পাকিস্তান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এলো যখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে, বিশেষ করে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে, কিছুটা টানাপোড়েন চলছে। যদিও পাকিস্তানের বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো ইস্যুর উল্লেখ করা হয়নি, তবে এর সময়কাল ও ভাষার ব্যবহার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি ভারতের আঞ্চলিক প্রভাব এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইসলামাবাদের উদ্বেগের প্রতিফলন।
ইসলামাবাদ আরও জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং এক্ষেত্রে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এই বিবৃতির পর ভারত বা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে আঞ্চলিক রাজনীতিতে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















