আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে মাদারীপুরের দুটি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী সরব হয়ে উঠেছেন। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তাদের এই তৎপরতা স্থানীয় বিএনপিতে বিভেদ সৃষ্টি করছে এবং দলের হাইকমান্ডের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই বিদ্রোহ দলের ঐক্য ও নির্বাচনী ফলাফলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর-১ ও মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির কয়েকজন নেতা দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও স্বতন্ত্রভাবে বা নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন। তারা বিভিন্ন জনসভা, পথসভা ও ঘরোয়া বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন এবং ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও তারা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। তাদের এই সক্রিয়তা দলের মনোনীত প্রার্থীদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্রোহী প্রার্থীরা অভিযোগ করছেন যে, দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, তারা তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন, যা দলীয় হাইকমান্ড উপেক্ষা করেছে। কিছু বিদ্রোহী প্রার্থী নিজেদেরকে ‘আসল বিএনপি’র প্রতিনিধি হিসেবেও দাবি করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে মাদারীপুর জেলা বিএনপি এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। একদিকে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শান্ত করে দলের ঐক্য ফিরিয়ে আনা—এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় নেতৃত্ব। জেলা বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতা দলের ভোটব্যাংকে চিড় ধরাতে পারে, যা প্রতিপক্ষ দলের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে ইতোমধ্যে কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ফল আসেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি দ্রুত এই বিদ্রোহ দমন করা না যায়, তাহলে মাদারীপুরের এই দুটি আসনে বিএনপির নির্বাচনী সম্ভাবনা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। দলের অভ্যন্তরে এই বিভেদ আগামী দিনের রাজনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















