বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের মূল প্রবক্তা বিএনপি, অথচ যারা এতদিন এ বিষয়ে নীরব ছিলেন, তারাই এখন সংস্কার নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন। তথাকথিত নব্য সংস্কারবাদীরা বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন, যা বিস্ময়কর। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির লক্ষ্য। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, বিএনপি শুরু থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে ‘ভিশন-২০৩০’ এবং ২০২২ সালে ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়। ২০২৩ সালে এই প্রস্তাবনা আরও বিস্তারিতভাবে ৩১ দফায় সম্প্রসারিত হয়। তিনি জানান, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব বিএনপিই প্রথম ২০১৬ সালে তুলে ধরেছিল। একইভাবে, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার প্রস্তাবও বিএনপিই প্রথম উত্থাপন করে, যাতে একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন একই পদে ক্ষমতায় থাকতে না পারেন। ২০১৪ সালে তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে ৫% কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই ধারাবাহিকতায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে বিএনপি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার ঘোষণা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের আসন্ন নির্বাচনী সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী ৪ জানুয়ারি, বুধবার, তারেক রহমান নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে বরিশাল ও ফরিদপুর যাবেন। সকাল ১১টায় আকাশপথে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন। দুপুর ১২টায় বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে একটি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। এরপর দুপুর ১টায় তিনি বরিশাল থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে যাবেন এবং দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আরেকটি জনসভায় যোগ দেবেন। সমাবেশ শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
মাহদী আমিন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত এক সপ্তাহে বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে অন্তত ২৯টি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তৈরি মিথ্যা বয়ান পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে এবং একই ভাষা ও স্লোগান ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপির ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন ও গণজোয়ারের মুখে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তারা সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ছেড়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানোর নোংরা কৌশল বেছে নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর ক্যাডেটদের নির্বাচনী কাজে মোতায়েন করার সিদ্ধান্তে বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মাহদী আমিন বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিএনসিসি ক্যাডেটদের অনেকেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে তাঁদের নির্বাচনে সম্পৃক্ত করা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপি ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়ে বিএনসিসি ক্যাডেটদের মোতায়েন না করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও মাহদী আমিন প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, গত ২৬ জানুয়ারি ইসি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানা গেছে যে, মোট ৮১টি স্থানীয় সংস্থার ৫৫,৪৫৪ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষককে পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ১৬টি সংস্থা থেকে ৩৪,৪৪২ জন পর্যবেক্ষক রয়েছেন, যা উদ্বেগজনক। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কয়েকটি সংস্থার নেতৃত্ব পর্যায়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্যরা রয়েছেন। নির্বাচনের দিন অসৎ উদ্দেশ্যে এদের একটি অংশকে ব্যবহার করা হতে পারে বলে বিএনপি আশঙ্কা করছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপি কয়েকটি দাবি জানিয়েছে:
পর্যবেক্ষকদের সম্পূর্ণ তালিকা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে রাজনৈতিক ও প্রার্থী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।
যেসব সংস্থার নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা কম, তাদের পর্যবেক্ষক সংখ্যা কমিয়ে আনা।
কোনো কেন্দ্রে একসাথে যাতে ২ জনের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা।
রিপোর্টারের নাম 






















