ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি মির্জা আব্বাসের কড়া সমালোচনা, ভোট কেন্দ্র পাহারার নির্দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক মন্তব্যের অভিযোগ তুলেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলিস্তানে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, কিছু প্রার্থী অশালীন ভাষা ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার করতে চাইছেন, যা তাদের মুখে শোভা পায় না। তিনি তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হয়ে কথা বলার আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি ভোটারদের নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার এবং পোলিং এজেন্টদের ফলাফল শিট হাতে নিয়ে কেন্দ্র ছাড়ার নির্দেশ দেন।

মির্জা আব্বাস তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “অল্প পানির মাছ বেশি পানিতে গেলে যেমন করে, তাদের অবস্থা এখন এমন। আপনারা যদি মনে করেন, আমার বিরুদ্ধে কথা বললেই প্রচারে থাকা যায়, তবে এর জন্য আরও অনেক ভালো পথ আছে। দান-খয়রাত করুন এবং শালীনভাবে কথা বলুন, কিন্তু এভাবে গালিগালাজ করে বা অসভ্য ভাষায় কথা বলে নিজেকে জাহির করবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, “জনগণ জানে চুলার মুখ দিয়ে কখনো স্বর্ণ বের হয় না, ছাই বের হয়। আর স্বর্ণের খনি থেকে কখনো ছাই বের হয় না।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তার অবস্থান বরাবরই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে যেসব কুৎসা রটানো হচ্ছে, এদেশের মানুষ তা বিশ্বাস করবে না। আব্বাস বলেন, যারা তার সম্পর্কে এমন ভাষায় কথা বলছেন, তাদের বয়স হয়েছে, অনেকেই বিবাহিত এবং সন্তানের বাবা। তিনি তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়টি মাথায় রেখে কথা বলার অনুরোধ জানান।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামের একটি জুনিয়র গ্রুপ সকাল-সন্ধ্যা বিএনপি সম্পর্কে অসংখ্য নোংরা কথা বলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ দেশের চাকরিজীবী মেয়েদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। নিজের সততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি কখনো কোনো অনৈতিক সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করিনি। যদি আপনাদের বুকের পাটা থেকে থাকে, তাহলে বায়তুল মোকাররমের সামনে আমার নামে সালিস বসান। আমি চুরিচামারি করে বড় হইনি, গায়ে খেটে বড় হয়েছি এবং নিজ হাতে কাজ করেছি।”

ভোটারদের উদ্দেশ্যে মির্জা আব্বাস নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারার নির্দেশ দেন। তিনি পোলিং এজেন্টদের উদ্দেশে বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট ছাড়া কক্ষ থেকে বের হওয়া যাবে না। ভোট গণনা ভোটকেন্দ্রে না করে অন্য কোথাও করার প্রস্তাব দেওয়া হলে তা কোনোভাবেই মেনে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আব্বাস বলেন, “ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে এবং ভোটের অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করতে প্রস্তুত।” তিনি আরও শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নব্য প্রার্থীদের কথাবার্তায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গুলিস্তানের হল মার্কেটে মতবিনিময় সভা শেষে মির্জা আব্বাস পাতাল মার্কেট ও স্টেডিয়াম মার্কেটে নির্বাচনী প্রচার চালান। পরে বায়তুল মোকাররমে জোহরের নামাজের পর তিনি সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি মির্জা আব্বাসের কড়া সমালোচনা, ভোট কেন্দ্র পাহারার নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক মন্তব্যের অভিযোগ তুলেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলিস্তানে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, কিছু প্রার্থী অশালীন ভাষা ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার করতে চাইছেন, যা তাদের মুখে শোভা পায় না। তিনি তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হয়ে কথা বলার আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি ভোটারদের নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার এবং পোলিং এজেন্টদের ফলাফল শিট হাতে নিয়ে কেন্দ্র ছাড়ার নির্দেশ দেন।

মির্জা আব্বাস তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “অল্প পানির মাছ বেশি পানিতে গেলে যেমন করে, তাদের অবস্থা এখন এমন। আপনারা যদি মনে করেন, আমার বিরুদ্ধে কথা বললেই প্রচারে থাকা যায়, তবে এর জন্য আরও অনেক ভালো পথ আছে। দান-খয়রাত করুন এবং শালীনভাবে কথা বলুন, কিন্তু এভাবে গালিগালাজ করে বা অসভ্য ভাষায় কথা বলে নিজেকে জাহির করবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, “জনগণ জানে চুলার মুখ দিয়ে কখনো স্বর্ণ বের হয় না, ছাই বের হয়। আর স্বর্ণের খনি থেকে কখনো ছাই বের হয় না।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তার অবস্থান বরাবরই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে যেসব কুৎসা রটানো হচ্ছে, এদেশের মানুষ তা বিশ্বাস করবে না। আব্বাস বলেন, যারা তার সম্পর্কে এমন ভাষায় কথা বলছেন, তাদের বয়স হয়েছে, অনেকেই বিবাহিত এবং সন্তানের বাবা। তিনি তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়টি মাথায় রেখে কথা বলার অনুরোধ জানান।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামের একটি জুনিয়র গ্রুপ সকাল-সন্ধ্যা বিএনপি সম্পর্কে অসংখ্য নোংরা কথা বলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ দেশের চাকরিজীবী মেয়েদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। নিজের সততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি কখনো কোনো অনৈতিক সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করিনি। যদি আপনাদের বুকের পাটা থেকে থাকে, তাহলে বায়তুল মোকাররমের সামনে আমার নামে সালিস বসান। আমি চুরিচামারি করে বড় হইনি, গায়ে খেটে বড় হয়েছি এবং নিজ হাতে কাজ করেছি।”

ভোটারদের উদ্দেশ্যে মির্জা আব্বাস নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারার নির্দেশ দেন। তিনি পোলিং এজেন্টদের উদ্দেশে বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট ছাড়া কক্ষ থেকে বের হওয়া যাবে না। ভোট গণনা ভোটকেন্দ্রে না করে অন্য কোথাও করার প্রস্তাব দেওয়া হলে তা কোনোভাবেই মেনে না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আব্বাস বলেন, “ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে এবং ভোটের অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করতে প্রস্তুত।” তিনি আরও শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নব্য প্রার্থীদের কথাবার্তায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গুলিস্তানের হল মার্কেটে মতবিনিময় সভা শেষে মির্জা আব্বাস পাতাল মার্কেট ও স্টেডিয়াম মার্কেটে নির্বাচনী প্রচার চালান। পরে বায়তুল মোকাররমে জোহরের নামাজের পর তিনি সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।