বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতাদের স্বাধীনতার ঘোষক সংক্রান্ত সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে জামায়াত নেতারা ইতিহাস বিকৃত করে মিথ্যাচার করছেন এবং স্বাধীনতার মূল আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আপনারা (জামায়াত) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার সময় নীরব ছিলেন, নির্যাতনকে স্বীকার করেননি, বরং তাদের সমর্থন জুগিয়েছেন। আজ কোন মুখে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলছেন? এমনও দিন আসতে পারে, যখন আপনারা বলবেন গোলাম আজমই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। কারণ, মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছপা হন না।”
রিজভী আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির নারীদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ এবং অবমাননাকর মন্তব্য করে দেশব্যাপী নারী সমাজের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। এই ক্ষোভ ঢাকা এবং মূল প্রসঙ্গ থেকে দৃষ্টি সরাতেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে নতুন করে কথা বলছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বিতর্কিত করে আড়াল করা সম্ভব নয়।
বিএনপি নেতা ১৯৮৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, “তখন এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে আপনারা এবং শেখ হাসিনা একমত ছিলেন। যারা যাবেন তারা জাতীয় বেইমান—এমন কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে শেখ হাসিনা এবং জামায়াতে ইসলামী উভয়ই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। জনগণের সঙ্গে ওয়াদা খেলাপ করেন।” তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সেই সময় নির্বাচনে যাননি এবং নয় বছর ধরে নিপীড়ন, অত্যাচার সহ্য করেও নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন।
রিজভীর মতে, নারীদের বিষয়ে জামায়াত আমিরের বর্তমান বক্তব্য তাদের আসল চরিত্র উন্মোচন করেছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে জামায়াত আমির যাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তিনি নিজেও কখনও এমন দাবি করেননি। প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। একজন মেজর হিসেবে তিনি সে সময় জাতির সামনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের সহকর্মী হিসেবে যারা কাজ করেছেন, তারাও তাদের লেখায় অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন।
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, “হঠাৎ করে রাজনৈতিক স্বার্থে এসব কথা বললে মানুষ কি তা বিশ্বাস করবে? তিনি তো তার সামরিক বা পেশাগত জীবনে কখনো নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেননি। এমনকি জিয়াউর রহমান দল গঠন করার সময়ও তিনি তার সহকারী হিসেবেই ছিলেন। এসব তথ্য তার প্রকাশিত বইয়েও রয়েছে।”
শবে বরাতের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, শবে বরাত একটি পবিত্র রজনী, যেখানে মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন হন। ইসলামের প্রতিটি উৎসবই আল্লাহর করুণা ও নেয়ামত লাভের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তা মানুষের মধ্যে আত্মশুদ্ধির অনুভূতি সৃষ্টি করে।
এ সময় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















