দেশের জনগণ ও প্রবাসীরা বিএনপিকে ভোট দেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) নির্বাচন পরিচালনা লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সফিকুল ইসলাম। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স বন্ধ করে দিতে পারেন। তাঁর মতে, অতীতে দুর্নীতির “চ্যাম্পিয়ন” হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় দেশের জনগণ, প্রবাসী এবং তরুণ ভোটাররা বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।
সোমবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ছাত্রদলের হামলায় গাজীপুরে এক নারী ব্যবসায়ী খুন এবং সারাদেশে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের “হ্যাঁ” পক্ষেও আহ্বান জানানো হয়।
সৈয়দ সফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে দেশী-বিদেশী অশুভ শক্তি অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, আমীরে জামায়াতের এক্স টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরের ইমেইল ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। একইসাথে, গত এক সপ্তাহ ধরে রাশেদ প্রধান-এর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা এবং ফোন কলে আড়িপাতার ঘটনা ঘটছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনকে হেন্ত করার অপচেষ্টা বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এই ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন।
তিনি বলেন, দেশবাসী মনে করে বিএনপির বর্তমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েম করবে। অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি তাঁর আহ্বান, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হবে এবং ভোটাররা ভীতসন্তোষত হয়ে পড়বে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বহু রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২৪’র জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ শোষণ, বঞ্চনা, ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে। এই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের মৌলিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। জাগপা সেই জুলাই চেতনাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে চায়। দেশবাসী গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে স্বীকৃতি দিতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, গণভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত হলে স্থানীয় প্রতিনিধি, সরকার এবং প্রশাসনকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হবে। এই লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর গণভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
এসময় জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, নির্বাচন পরিচালনা লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য সচিব এস এম জিয়াউল আনোয়ার, সদস্য নজরুল ইসলাম বাবলু, মো. সাব্বির আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















