ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশন জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: মির্জা ফখরুল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আলোচনা সভায় অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশ ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করেছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা আ স ম আবদুর রব অসুস্থ থাকায় এই সভায় সভাপতিত্ব করেন তার সহধর্মিণী ও দলের সহসভাপতি তানিয়া রব।

জুলাই সনদ ও তার বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সুপারিশগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করল, তখন সুপারিশে অনেক বড় ধরনের ফারাক দেখা যায়। আমরা আশা করেছিলাম যে নোট অব ডিসেন্টগুলো (ভিন্নমত) ছিল, সেগুলো সুপারিশে উল্লেখ থাকবে। আমরা তাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। কিন্তু সেই আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এটা তাদের কাছ থেকে আমরা মোটেই আশা করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো সুযোগ এখন আর নেই। আমরা পরিষ্কার করে জানিয়েছি, নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে। সেখানে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে—একটি গণভোটের জন্য, অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। এ বিষয়ে কারো দ্বিমত থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না। খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা নির্বাচন করব, নির্বাচন করতে চাই। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন, সেই ঘোষণার সঙ্গে আমরা একমত হয়ে নির্বাচন চাই। অথচ একটি মহল এই নির্বাচনকে বানচাল বা বিলম্বিত করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে এবং বিভিন্ন কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি উত্থাপনকারী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে যারা এই নিয়ে গোলমাল করছেন, রাস্তায় নেমেছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ করব—দয়া করে, জনগণকে আপনারা অতীতে অনেক বিভ্রান্ত করেছেন, সেগুলো আমি আর বলতে চাই না। একসময় দেশের সব মানুষের চাওয়া ছিল দেশ স্বাধীন হবে। আপনারা (জামায়াতে ইসলামী) সেটার বিরোধিতা করেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। আজকে দয়া করে জনগণ যে নির্বাচন চায়, সেই নির্বাচনের বিরোধিতা করবেন না। এদেশের মানুষ কখনো প্রতারক বা যারা প্রতারণা করে, তাদের ক্ষমা করে না, তারা ক্ষমা পায় না। তাই আপনারা ওখান থেকে সরে এসে নির্বাচন করুন।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠিত হোক—এটাই আমরা সবাই চাই। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই সংকট থেকে আমরা যেদিকে দ্রুত উত্তরণ ঘটাতে পারি, সেদিকেই আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আমাদের মিত্রদের নিয়ে, যাদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লড়াই-সংগ্রাম ও কাজ করেছি, তাদের সঙ্গে নিয়েই সরকার গঠন করতে চাই। খুব পরিষ্কার কথা আমরা বলেছি, নির্বাচনের পরে আমরা একটা জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। সুতরাং এই ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার। আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে এই নির্বাচনকে উপলক্ষ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই এবং নির্বাচনকে অত্যন্ত সুন্দর-সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে আমাদের জনগণের একটি পার্লামেন্ট ও সরকার গঠন করি।’

সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে যত সংস্কার, সব বিএনপির হাত দিয়ে হয়েছে। আমরাই সংস্কারের জন্য ৩১ দফা দিয়েছি। আমরাসহ সব রাজনৈতিক দল সংস্কার করতেই সনদে সই করেছে। যে সংস্কারগুলোতে আমরা একমত হয়েছি, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে সেগুলোই আমরা বাস্তবায়ন করব। আর যেগুলো পারিনি, সেগুলো আমাদের ম্যানিফেস্টোতে নিয়ে এসে বাস্তবায়ন করব।’

জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আলোচনা সভায় অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশ ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করেছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা আ স ম আবদুর রব অসুস্থ থাকায় এই সভায় সভাপতিত্ব করেন তার সহধর্মিণী ও দলের সহসভাপতি তানিয়া রব।

জুলাই সনদ ও তার বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সুপারিশগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করল, তখন সুপারিশে অনেক বড় ধরনের ফারাক দেখা যায়। আমরা আশা করেছিলাম যে নোট অব ডিসেন্টগুলো (ভিন্নমত) ছিল, সেগুলো সুপারিশে উল্লেখ থাকবে। আমরা তাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। কিন্তু সেই আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এটা তাদের কাছ থেকে আমরা মোটেই আশা করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো সুযোগ এখন আর নেই। আমরা পরিষ্কার করে জানিয়েছি, নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে। সেখানে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে—একটি গণভোটের জন্য, অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। এ বিষয়ে কারো দ্বিমত থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না। খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা নির্বাচন করব, নির্বাচন করতে চাই। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন, সেই ঘোষণার সঙ্গে আমরা একমত হয়ে নির্বাচন চাই। অথচ একটি মহল এই নির্বাচনকে বানচাল বা বিলম্বিত করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে এবং বিভিন্ন কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি উত্থাপনকারী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে যারা এই নিয়ে গোলমাল করছেন, রাস্তায় নেমেছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ করব—দয়া করে, জনগণকে আপনারা অতীতে অনেক বিভ্রান্ত করেছেন, সেগুলো আমি আর বলতে চাই না। একসময় দেশের সব মানুষের চাওয়া ছিল দেশ স্বাধীন হবে। আপনারা (জামায়াতে ইসলামী) সেটার বিরোধিতা করেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। আজকে দয়া করে জনগণ যে নির্বাচন চায়, সেই নির্বাচনের বিরোধিতা করবেন না। এদেশের মানুষ কখনো প্রতারক বা যারা প্রতারণা করে, তাদের ক্ষমা করে না, তারা ক্ষমা পায় না। তাই আপনারা ওখান থেকে সরে এসে নির্বাচন করুন।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠিত হোক—এটাই আমরা সবাই চাই। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই সংকট থেকে আমরা যেদিকে দ্রুত উত্তরণ ঘটাতে পারি, সেদিকেই আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আমাদের মিত্রদের নিয়ে, যাদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লড়াই-সংগ্রাম ও কাজ করেছি, তাদের সঙ্গে নিয়েই সরকার গঠন করতে চাই। খুব পরিষ্কার কথা আমরা বলেছি, নির্বাচনের পরে আমরা একটা জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। সুতরাং এই ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার। আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে এই নির্বাচনকে উপলক্ষ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই এবং নির্বাচনকে অত্যন্ত সুন্দর-সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে আমাদের জনগণের একটি পার্লামেন্ট ও সরকার গঠন করি।’

সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে যত সংস্কার, সব বিএনপির হাত দিয়ে হয়েছে। আমরাই সংস্কারের জন্য ৩১ দফা দিয়েছি। আমরাসহ সব রাজনৈতিক দল সংস্কার করতেই সনদে সই করেছে। যে সংস্কারগুলোতে আমরা একমত হয়েছি, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে সেগুলোই আমরা বাস্তবায়ন করব। আর যেগুলো পারিনি, সেগুলো আমাদের ম্যানিফেস্টোতে নিয়ে এসে বাস্তবায়ন করব।’

জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশন জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ১০:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আলোচনা সভায় অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশ ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করেছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা আ স ম আবদুর রব অসুস্থ থাকায় এই সভায় সভাপতিত্ব করেন তার সহধর্মিণী ও দলের সহসভাপতি তানিয়া রব।

জুলাই সনদ ও তার বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সুপারিশগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করল, তখন সুপারিশে অনেক বড় ধরনের ফারাক দেখা যায়। আমরা আশা করেছিলাম যে নোট অব ডিসেন্টগুলো (ভিন্নমত) ছিল, সেগুলো সুপারিশে উল্লেখ থাকবে। আমরা তাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। কিন্তু সেই আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এটা তাদের কাছ থেকে আমরা মোটেই আশা করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো সুযোগ এখন আর নেই। আমরা পরিষ্কার করে জানিয়েছি, নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে। সেখানে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে—একটি গণভোটের জন্য, অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। এ বিষয়ে কারো দ্বিমত থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না। খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা নির্বাচন করব, নির্বাচন করতে চাই। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন, সেই ঘোষণার সঙ্গে আমরা একমত হয়ে নির্বাচন চাই। অথচ একটি মহল এই নির্বাচনকে বানচাল বা বিলম্বিত করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে এবং বিভিন্ন কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি উত্থাপনকারী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে যারা এই নিয়ে গোলমাল করছেন, রাস্তায় নেমেছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ করব—দয়া করে, জনগণকে আপনারা অতীতে অনেক বিভ্রান্ত করেছেন, সেগুলো আমি আর বলতে চাই না। একসময় দেশের সব মানুষের চাওয়া ছিল দেশ স্বাধীন হবে। আপনারা (জামায়াতে ইসলামী) সেটার বিরোধিতা করেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। আজকে দয়া করে জনগণ যে নির্বাচন চায়, সেই নির্বাচনের বিরোধিতা করবেন না। এদেশের মানুষ কখনো প্রতারক বা যারা প্রতারণা করে, তাদের ক্ষমা করে না, তারা ক্ষমা পায় না। তাই আপনারা ওখান থেকে সরে এসে নির্বাচন করুন।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠিত হোক—এটাই আমরা সবাই চাই। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই সংকট থেকে আমরা যেদিকে দ্রুত উত্তরণ ঘটাতে পারি, সেদিকেই আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আমাদের মিত্রদের নিয়ে, যাদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লড়াই-সংগ্রাম ও কাজ করেছি, তাদের সঙ্গে নিয়েই সরকার গঠন করতে চাই। খুব পরিষ্কার কথা আমরা বলেছি, নির্বাচনের পরে আমরা একটা জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। সুতরাং এই ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার। আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে এই নির্বাচনকে উপলক্ষ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই এবং নির্বাচনকে অত্যন্ত সুন্দর-সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে আমাদের জনগণের একটি পার্লামেন্ট ও সরকার গঠন করি।’

সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে যত সংস্কার, সব বিএনপির হাত দিয়ে হয়েছে। আমরাই সংস্কারের জন্য ৩১ দফা দিয়েছি। আমরাসহ সব রাজনৈতিক দল সংস্কার করতেই সনদে সই করেছে। যে সংস্কারগুলোতে আমরা একমত হয়েছি, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে সেগুলোই আমরা বাস্তবায়ন করব। আর যেগুলো পারিনি, সেগুলো আমাদের ম্যানিফেস্টোতে নিয়ে এসে বাস্তবায়ন করব।’

জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আলোচনা সভায় অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশ ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করেছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা আ স ম আবদুর রব অসুস্থ থাকায় এই সভায় সভাপতিত্ব করেন তার সহধর্মিণী ও দলের সহসভাপতি তানিয়া রব।

জুলাই সনদ ও তার বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সুপারিশগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করল, তখন সুপারিশে অনেক বড় ধরনের ফারাক দেখা যায়। আমরা আশা করেছিলাম যে নোট অব ডিসেন্টগুলো (ভিন্নমত) ছিল, সেগুলো সুপারিশে উল্লেখ থাকবে। আমরা তাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। কিন্তু সেই আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এটা তাদের কাছ থেকে আমরা মোটেই আশা করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো সুযোগ এখন আর নেই। আমরা পরিষ্কার করে জানিয়েছি, নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে। সেখানে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে—একটি গণভোটের জন্য, অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। এ বিষয়ে কারো দ্বিমত থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না। খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা নির্বাচন করব, নির্বাচন করতে চাই। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন, সেই ঘোষণার সঙ্গে আমরা একমত হয়ে নির্বাচন চাই। অথচ একটি মহল এই নির্বাচনকে বানচাল বা বিলম্বিত করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে এবং বিভিন্ন কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি উত্থাপনকারী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে যারা এই নিয়ে গোলমাল করছেন, রাস্তায় নেমেছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ করব—দয়া করে, জনগণকে আপনারা অতীতে অনেক বিভ্রান্ত করেছেন, সেগুলো আমি আর বলতে চাই না। একসময় দেশের সব মানুষের চাওয়া ছিল দেশ স্বাধীন হবে। আপনারা (জামায়াতে ইসলামী) সেটার বিরোধিতা করেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। আজকে দয়া করে জনগণ যে নির্বাচন চায়, সেই নির্বাচনের বিরোধিতা করবেন না। এদেশের মানুষ কখনো প্রতারক বা যারা প্রতারণা করে, তাদের ক্ষমা করে না, তারা ক্ষমা পায় না। তাই আপনারা ওখান থেকে সরে এসে নির্বাচন করুন।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠিত হোক—এটাই আমরা সবাই চাই। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই সংকট থেকে আমরা যেদিকে দ্রুত উত্তরণ ঘটাতে পারি, সেদিকেই আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আমাদের মিত্রদের নিয়ে, যাদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লড়াই-সংগ্রাম ও কাজ করেছি, তাদের সঙ্গে নিয়েই সরকার গঠন করতে চাই। খুব পরিষ্কার কথা আমরা বলেছি, নির্বাচনের পরে আমরা একটা জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। সুতরাং এই ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার। আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে এই নির্বাচনকে উপলক্ষ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই এবং নির্বাচনকে অত্যন্ত সুন্দর-সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে আমাদের জনগণের একটি পার্লামেন্ট ও সরকার গঠন করি।’

সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে যত সংস্কার, সব বিএনপির হাত দিয়ে হয়েছে। আমরাই সংস্কারের জন্য ৩১ দফা দিয়েছি। আমরাসহ সব রাজনৈতিক দল সংস্কার করতেই সনদে সই করেছে। যে সংস্কারগুলোতে আমরা একমত হয়েছি, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে সেগুলোই আমরা বাস্তবায়ন করব। আর যেগুলো পারিনি, সেগুলো আমাদের ম্যানিফেস্টোতে নিয়ে এসে বাস্তবায়ন করব।’

জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।