বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অভিযোগ করেছেন যে, ভারতীয় গণমাধ্যম এবং দেশের শাসকগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত অপতথ্যের বিস্তার ঘটাচ্ছে। সোমবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
শফিকুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভারতের অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিষয়ে কখনো সঠিক তথ্য পরিবেশন করেনি। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, আনন্দবাজারের মতো ভারতের অন্যতম সর্বাধিক পঠিত বাংলা পত্রিকাও বাংলাদেশের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে। তাঁর মতে, ভারত একটি সুপরিকল্পিত উপায়ে এই ধরনের অপতথ্য ও বিকৃত তথ্য ছড়াচ্ছে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও এর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী পক্ষ কাজ করছে। এই অপতথ্য ও বিকৃত তথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এখন প্রধান বিবেচ্য বিষয়। তিনি জানান, এই ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা স্থানীয় উৎস থেকে যেমন আসছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও হচ্ছে। গত ১৮ মাসে ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশের বিষয়ে যে ভয়াবহ অপতথ্য ছড়িয়েছে, তা নজিরবিহীন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তাঁর অভিযোগ, গত ৫৪ বছরের বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকার এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই অপতথ্য কি তারা নিজেরা ছড়াচ্ছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের দায় রয়েছে। গণমাধ্যমের উচিত ছিল সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়া, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, গণমাধ্যম আজ জনরোষের ভয়ে ভীত। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রিপোর্টারের নাম 




















