ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য অনুদান সহায়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের লোকসভায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ তাঁর নবম বাজেট পেশ করেন। এবারের বাজেটে বাংলাদেশের জন্য অনুদান বা উন্নয়ন সহায়তা বাবদ বরাদ্দ গত অর্থবছরের তুলনায় অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাজেট নথি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০ কোটি ভারতীয় রুপি, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বরাদ্দের (১২০ কোটি রুপি) তুলনায় ৫০ শতাংশ কম। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন সমীকরণ এই বরাদ্দ হ্রাসের অন্যতম কারণ।
প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বরাদ্দ একনজরে
ভারত তার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ (Neighbourhood First) নীতির আওতায় অন্য দেশগুলোর জন্য বরাদ্দ বাড়ালেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ব্যতিক্রম।
- ভুটান: বরাবরের মতো সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী হিসেবে ২,২৮৯ কোটি রুপি বরাদ্দ পেয়েছে।
- নেপাল: নেপালের জন্য বরাদ্দ ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৮০০ কোটি রুপি করা হয়েছে।
- শ্রীলঙ্কা: অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সহায়তায় ৪০০ কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
- মালদ্বীপ ও মরিশাস: দুই দেশের জন্যই ৫৫০ কোটি রুপি করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
- আফগানিস্তান: মানবিক সহায়তার জন্য ১৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ বহাল রাখা হয়েছে।
চাবাহার বন্দরে অর্থায়ন বন্ধ
এবারের বাজেটের অন্যতম চমক হলো ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনো তহবিল বরাদ্দ না রাখা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই প্রকল্পে ৪০০ কোটি রুপি রাখা হলেও এবার তা শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক ইরানের ওপর নতুন করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত এই কৌশলগত পিছুটান দিয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন
বাজেট নথিতে দেখা যায়, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দ থাকলেও টানাপোড়েনের কারণে প্রকৃতপক্ষে খরচ হয়েছিল মাত্র ৩৪.৪৮ কোটি রুপি। ভারত ইতিমধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা সীমিত করেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নিয়েছে। বর্তমান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পাকিস্তানমুখী ঝোঁক এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কার্গো জাহাজ ও বিমান চলাচল শুরু হওয়ার বিষয়টিও ভারতের নীতি-নির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















