আসন্ন নির্বাচনে ভোট কারচুপির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যারা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের প্রতিহত করা হবে। একইসাথে তিনি প্রত্যেক ভোটারকে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার এবং অন্যের ভোটে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কলাবাগানের গ্রিন রোড স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে ঢাকা-১০ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ জসীম উদ্দীন সরকারের পক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ‘আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো’ স্লোগানটি অচল হয়ে গেছে। এখন থেকে প্রত্যেককে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার পাশাপাশি অন্যের ভোটে হস্তক্ষেপ না করার মানসিকতা নিয়ে চলতে হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, অন্যের ভোটে হাত দিলে তার পরিণতি ভালো হবে না, পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠবে। ভোটারদের এই পাহারাদারি নিশ্চিত করতে হবে।
জামায়াত আমির ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আসন্ন নির্বাচনের দিন নতুন বাংলাদেশ ও পরিবর্তনের পক্ষে প্রথম ভোটটি যেন ‘হ্যাঁ’ ভোট হয়। যারা ‘হ্যাঁ’ দেবেন, তারা নতুন বাংলাদেশ ও ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে থাকবেন। আর যারা ‘না’ দেবেন, তারা সংস্কার চান না বরং ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে চান বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দল ঘরে ঘরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করছে, অথচ তারাই মা-বোনদের গায়ে হাত দিয়ে তাদের অসম্মান করছে। এমন কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
নিজেকে ও দলের নেতাকর্মীদের ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ বলার অভিযোগের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা বছরের পর বছর দেশের বাইরে ছিলেন, তারাই এখন আমাদের সম্পর্কে এমন কথা বলছেন। অথচ বিগত ১৭ বছর দেশের মানুষ তাদের কোথাও দেখেনি। আমরা কারাগারে ছিলাম, গুম-খুনের শিকার হয়েছি। যদি কারাগারে থাকলেই কেউ ‘গুপ্ত’ হয়, তবে আমরা ‘গুপ্ত’। তিনি আরও বলেন, হাজারো জুলুম-নির্যাতনেও আমরা দেশ ছেড়ে পালাইনি, নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেশেই ছিলাম। জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব।
তিনি ‘জুলাই শহীদদের’ পরিবারের উদ্দেশে বলেন, সুযোগ পেলে তাদের সন্তানদের হত্যার বিচার করা হবে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।
এ সময় তিনি অ্যাডভোকেট মোঃ জসীম উদ্দীন সরকারের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন এবং এলাকার জনগণের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ জসীম উদ্দীন সরকার তার বক্তব্যে বলেন, বর্ষাকালে গ্রিন রোড এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়, এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে এলাকা জরাজীর্ণ। তিনি বিজয়ী হলে এই আসনের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। ঢাকা-১০ আসনের পরিচালক অধ্যাপক নূরনবী মানিক এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























