ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ড. ইউনূসের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের বৈঠক: ‘হেলথ সিটি’ ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বাংলাদেশ-চীন পার্টনারশিপ ফোরামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চীনের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী এবং বায়োমেডিক্যাল, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ও ‘হেলথ সিটি’র স্বপ্ন: বৈঠকে ড. ইউনূস তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যখাতকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তিকে স্বাস্থ্যসেবায় এমনভাবে যুক্ত করতে হবে যাতে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়।” বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে একটি এক হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক ‘হেলথ সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এই সিটিতে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র এবং ওষুধ ও যন্ত্রপাতি উৎপাদনের হাব থাকবে, যা ভারত, নেপাল ও ভুটানের মানুষের জন্যও মানসম্মত চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দু হবে।

ওষুধ শিল্পে সামাজিক ব্যবসা ও ন্যায্যতা: ওষুধের উচ্চমূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ওষুধ তৈরিতে খরচ পড়ে পয়সা, কিন্তু বিক্রি হয় ডলারে। আমরা সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ওষুধ কোম্পানি চাই, যারা মুনাফার চেয়ে মানুষের কল্যাণকে বড় করে দেখবে।” কোভিড-১৯ মহামারির সময় পেটেন্টমুক্ত টিকার পক্ষে তাঁর জোরালো অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ মারা যাওয়ার সময় গুটি কয়েক দেশের মুনাফা করা অত্যন্ত লজ্জাজনক ছিল। তিনি ‘দান নয়, ন্যায্যতা’র ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক: ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের সময় থেকে চীনের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি গত বছরের মার্চে চীন সফরের সময় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতাপূর্ণ সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট শি আমাকে জানিয়েছিলেন তিনি আমার বই পড়েছেন এবং এর নীতিগুলো অনুসরণ করেন, যা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ছিল।”

প্রতিনিধিদলের আগ্রহ ও সহযোগিতা: প্রতিনিধিদলে থাকা সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল বিজ্ঞানী শিন-ইউয়ান ফু এবং ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজির অ্যান্ড্রু জিলং ওং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদন ও স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিজিটালাইজেশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন।

ক্ষমতা হস্তান্তর ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতা: আসন্ন নির্বাচন ও সরকার পরিবর্তন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, “কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমি এই দায়িত্ব ছাড়ব এবং নতুন সরকার গঠিত হবে। তবে আমাদের দুই দেশের কাজের ধারাবাহিকতা ও সহযোগিতা চলতেই থাকবে।” প্রতিনিধিদলে চীনের নামী অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের আশ্বাস দেন। বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

ড. ইউনূসের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের বৈঠক: ‘হেলথ সিটি’ ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব

আপডেট সময় : ১১:০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বাংলাদেশ-চীন পার্টনারশিপ ফোরামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চীনের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী এবং বায়োমেডিক্যাল, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ও ‘হেলথ সিটি’র স্বপ্ন: বৈঠকে ড. ইউনূস তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যখাতকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তিকে স্বাস্থ্যসেবায় এমনভাবে যুক্ত করতে হবে যাতে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়।” বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে একটি এক হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক ‘হেলথ সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এই সিটিতে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র এবং ওষুধ ও যন্ত্রপাতি উৎপাদনের হাব থাকবে, যা ভারত, নেপাল ও ভুটানের মানুষের জন্যও মানসম্মত চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দু হবে।

ওষুধ শিল্পে সামাজিক ব্যবসা ও ন্যায্যতা: ওষুধের উচ্চমূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ওষুধ তৈরিতে খরচ পড়ে পয়সা, কিন্তু বিক্রি হয় ডলারে। আমরা সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ওষুধ কোম্পানি চাই, যারা মুনাফার চেয়ে মানুষের কল্যাণকে বড় করে দেখবে।” কোভিড-১৯ মহামারির সময় পেটেন্টমুক্ত টিকার পক্ষে তাঁর জোরালো অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ মারা যাওয়ার সময় গুটি কয়েক দেশের মুনাফা করা অত্যন্ত লজ্জাজনক ছিল। তিনি ‘দান নয়, ন্যায্যতা’র ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক: ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের সময় থেকে চীনের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি গত বছরের মার্চে চীন সফরের সময় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতাপূর্ণ সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট শি আমাকে জানিয়েছিলেন তিনি আমার বই পড়েছেন এবং এর নীতিগুলো অনুসরণ করেন, যা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ছিল।”

প্রতিনিধিদলের আগ্রহ ও সহযোগিতা: প্রতিনিধিদলে থাকা সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল বিজ্ঞানী শিন-ইউয়ান ফু এবং ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজির অ্যান্ড্রু জিলং ওং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদন ও স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিজিটালাইজেশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন।

ক্ষমতা হস্তান্তর ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতা: আসন্ন নির্বাচন ও সরকার পরিবর্তন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, “কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমি এই দায়িত্ব ছাড়ব এবং নতুন সরকার গঠিত হবে। তবে আমাদের দুই দেশের কাজের ধারাবাহিকতা ও সহযোগিতা চলতেই থাকবে।” প্রতিনিধিদলে চীনের নামী অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের আশ্বাস দেন। বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।