ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘কোনো নারী কখনো জামায়াতের আমির হতে পারবেন না’: আল জাজিরাকে শফিকুর রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো নারী কখনো তাঁর দলের আমির বা শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন হতে পারবেন না। তাঁর মতে, মহান আল্লাহ নারী ও পুরুষকে আলাদা সত্তা এবং ভিন্ন ভিন্ন সক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা কোনোভাবেই পরিবর্তনযোগ্য নয়। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ঢাকার নিজ বাসভবনে বসে প্রখ্যাত সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনকে দেওয়া এই আধা ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে জামায়াতের নারী নীতি ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকারে শ্রীনিবাসন জৈন জামায়াত আমিরের পূর্ববর্তী একটি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি মূলত মায়েদের সুবিধার্থে এবং বিশেষ করে স্তন্যদানকালীন সময়ে শিশুদের সঠিক যত্নের খাতিরে এই ঐচ্ছিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, একজন নারীকে যখন সন্তান ধারণ ও লালন-পালনের পাশাপাশি পুরুষের সমান সময় ধরে কাজ করতে হয়, তখন তা তাঁর প্রতি ন্যায়বিচার হয় না। এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং একটি ঐচ্ছিক সুযোগ হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তবে বাংলাদেশের নারী অধিকারকর্মীদের প্রতিবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁরা বিষয়টি ভুল বুঝেছেন এবং তাঁরা সমাজের একটি নগণ্য অংশ।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, “না, এই নির্বাচনে আমাদের একজনও নারী প্রার্থী নেই। তবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।” তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের অন্য কোনো দলও ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ নারী প্রার্থী দেয়নি, কারণ এটি এ দেশের একটি ‘সাংস্কৃতিক বাস্তবতা’। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁদের দলের নারী সদস্যরা অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি ছিল নারী নেতৃত্ব নিয়ে শফিকুর রহমানের কঠোর অবস্থান। শ্রীনিবাসন জৈন যখন প্রশ্ন করেন, কোনো নারী কেন জামায়াতের আমির হতে পারবেন না—জবাবে শফিকুর রহমান সাফ জানিয়ে দেন, “এটি সম্ভব নয়। আল্লাহ প্রত্যেককে নিজস্ব সত্তা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একজন পুরুষ কখনো সন্তান ধারণ করতে পারে না, আবার নারীও সবকিছু করতে পারেন না। এটি সৃষ্টিকর্তার দেওয়া পার্থক্য।” তিনি আরও বলেন, মা হওয়ার সময় বা শারীরিক নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে নারীরা এই গুরুদায়িত্ব পালনে সক্ষম নন।

সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন যখন মনে করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ গত তিন দশক ধরে নারী প্রধানমন্ত্রীর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, তখন শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কখনো প্রতিবাদ করেননি, তবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই নারী নেতৃত্বকে ‘বাস্তবসম্মত মনে করে না’। তিনি দাবি করেন, উন্নত বিশ্বে খুব কম দেশেই নারীরা নেতৃত্বে আসতে পেরেছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপির সঙ্গে জোট সরকারে থাকার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে নেতা বানানো বিএনপির সিদ্ধান্ত ছিল, জামায়াতের নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত তার নিজস্ব দলীয় সিদ্ধান্তে অটল থাকবে এবং সেখানে নারী নেতৃত্বের কোনো স্থান নেই।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

‘কোনো নারী কখনো জামায়াতের আমির হতে পারবেন না’: আল জাজিরাকে শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো নারী কখনো তাঁর দলের আমির বা শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন হতে পারবেন না। তাঁর মতে, মহান আল্লাহ নারী ও পুরুষকে আলাদা সত্তা এবং ভিন্ন ভিন্ন সক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা কোনোভাবেই পরিবর্তনযোগ্য নয়। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় বৃহস্পতিবার সম্প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ঢাকার নিজ বাসভবনে বসে প্রখ্যাত সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনকে দেওয়া এই আধা ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে জামায়াতের নারী নীতি ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকারে শ্রীনিবাসন জৈন জামায়াত আমিরের পূর্ববর্তী একটি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি মূলত মায়েদের সুবিধার্থে এবং বিশেষ করে স্তন্যদানকালীন সময়ে শিশুদের সঠিক যত্নের খাতিরে এই ঐচ্ছিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, একজন নারীকে যখন সন্তান ধারণ ও লালন-পালনের পাশাপাশি পুরুষের সমান সময় ধরে কাজ করতে হয়, তখন তা তাঁর প্রতি ন্যায়বিচার হয় না। এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং একটি ঐচ্ছিক সুযোগ হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তবে বাংলাদেশের নারী অধিকারকর্মীদের প্রতিবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁরা বিষয়টি ভুল বুঝেছেন এবং তাঁরা সমাজের একটি নগণ্য অংশ।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, “না, এই নির্বাচনে আমাদের একজনও নারী প্রার্থী নেই। তবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।” তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের অন্য কোনো দলও ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ নারী প্রার্থী দেয়নি, কারণ এটি এ দেশের একটি ‘সাংস্কৃতিক বাস্তবতা’। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁদের দলের নারী সদস্যরা অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি ছিল নারী নেতৃত্ব নিয়ে শফিকুর রহমানের কঠোর অবস্থান। শ্রীনিবাসন জৈন যখন প্রশ্ন করেন, কোনো নারী কেন জামায়াতের আমির হতে পারবেন না—জবাবে শফিকুর রহমান সাফ জানিয়ে দেন, “এটি সম্ভব নয়। আল্লাহ প্রত্যেককে নিজস্ব সত্তা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একজন পুরুষ কখনো সন্তান ধারণ করতে পারে না, আবার নারীও সবকিছু করতে পারেন না। এটি সৃষ্টিকর্তার দেওয়া পার্থক্য।” তিনি আরও বলেন, মা হওয়ার সময় বা শারীরিক নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে নারীরা এই গুরুদায়িত্ব পালনে সক্ষম নন।

সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন যখন মনে করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ গত তিন দশক ধরে নারী প্রধানমন্ত্রীর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, তখন শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কখনো প্রতিবাদ করেননি, তবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই নারী নেতৃত্বকে ‘বাস্তবসম্মত মনে করে না’। তিনি দাবি করেন, উন্নত বিশ্বে খুব কম দেশেই নারীরা নেতৃত্বে আসতে পেরেছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপির সঙ্গে জোট সরকারে থাকার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে নেতা বানানো বিএনপির সিদ্ধান্ত ছিল, জামায়াতের নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত তার নিজস্ব দলীয় সিদ্ধান্তে অটল থাকবে এবং সেখানে নারী নেতৃত্বের কোনো স্থান নেই।