জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে জীবন দিতেও আমরা প্রস্তুত, তবে কারো অধিকার কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না।’ তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অতীতের মতো গায়ের জোরে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে দেশের যুবসমাজ তা প্রতিহত করবে। তিনি দাবি করেন, ‘জুলাই বিপ্লবের’ যুবসমাজ এখনো ঘুমিয়ে যায়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইফুল আলম মিলনের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নারীদের ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে এবং সন্ত্রাস কায়েমের মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এর ফলে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, তবে এর দায়ভার অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে।
৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী কারও বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা বা হয়রানি করেনি বলে দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের অভিনন্দন জানাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জামায়াত বিজয়ী হলে অন্যদেরও তাদের বিজয় মেনে নেওয়ার মতো মানসিকতা রাখতে হবে।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে সংসদ সদস্যদের তাদের বার্ষিক সকল আয়-ব্যয় ও কার্যক্রম জনসম্মুখে প্রকাশ করতে বাধ্য করা হবে।
নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মুক্তিকামী ও মজলুম জনগণ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদেরই বিজয়ী করবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের সামগ্রিক চেহারাই পাল্টে যাবে। সেই নির্বাচনের ফলাফল বার্তা দেবে যে, এই জোটের সদস্যরা কোনো চাঁদাবাজি করে না এবং তারা কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বরদাশতও করবে না।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে তাৎক্ষণিকভাবে ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অচল হয়ে যাবে। বাকি ১০ ভাগকে বোঝানো হবে, এবং তা না মানলে যা করার দরকার, তাই করা হবে। চেহারা না দেখেই সেদিন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের স্বার্থে সেদিন তারা নির্দয় ও নিষ্ঠুর হতেও পিছপা হবেন না।
ডা. শফিকুর রহমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, এগুলো বন্ধ হলে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের কারণে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং এর খেসারত সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। তিনি কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের গত মাসের ২৮ তারিখে চাঁদাবাজদের রুখে দেওয়ার প্রশংসা করেন এবং বলেন, কারওয়ান বাজারের মতো সারা দেশের ব্যবসায়ীদেরও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
জামায়াত আমির পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সঙ্গে সঙ্গে ৯০ শতাংশ চাঁদাবাজির ‘হাত অবশ’ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজ বললেই তাদের গায়ে ফোসকা পড়ে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে চাঁদাবাজি বন্ধে জামায়াত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মাঠে কাজ করবে।
তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ যুবকদের হাতেই তুলে দেওয়া হবে। যুবসমাজকে আর চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদকগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। বিশ্বের কোথাও বাংলাদেশের মতো এত বিপুল সংখ্যক যুবক নেই। তিনি প্রত্যেক যুবককে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, তারা যুবক-যুবতীদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করবেন না, বরং তাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাতে পরিণত করার জন্য কাজ করবেন।
সমাবেশে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইফুল আলম মিলন তাঁর ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন। নির্বাচিত হলে তিনি ঢাকা-১২ এলাকাকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। সেই সঙ্গে তিনি ব্যবসায়ীদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করার কথাও বলেন।
ঢাকা-১২ আসনের নির্বাচন কমিটির পরিচালক এবং তেজগাঁও দক্ষিণ থানার আমির ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী সাইফুল আলম মিলন, জাগপার সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির সাইফুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 
























