ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোটের আহ্বান, সংবিধানে মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও অগণতান্ত্রিক শাসনকাঠামো ভেঙে নতুন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে ব্যাপক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে এবং এই সংস্কার বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হলো গণভোটের মাধ্যমে জনগণের স্পষ্ট রায়।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এই সভার আয়োজন করে।

আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন, গত বছরের জুলাই মাসে দেশজুড়ে যে গণআন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল, তা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, ধর্ম, বর্ণ বা মতাদর্শের ভিত্তিতে ছিল না। বরং বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার অবসানের একটি মাত্র লক্ষ্যে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এবং এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে একজন ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকার ফলে নাগরিকদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হয়েছে। একাধিক জাতীয় নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানকে নিজেদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর সমালোচনা করে আলী রীয়াজ বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী একক সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং এমনকি বিচার বিভাগকেও প্রভাবিত করতে পারেন। যদিও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির, তবে বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ বাধ্যতামূলক হওয়ায় ক্ষমতার চরম কেন্দ্রীকরণ ঘটেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংসদীয় কমিটির ২৫টি বৈঠক এবং ১০৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মতামত উপেক্ষা করে কেবল শেখ হাসিনার একক ইচ্ছায় পুরো সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে জনগণের ভোটাধিকার কার্যত রুদ্ধ হয়ে যায়।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ বেশ কিছু মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— একজন ব্যক্তি তাঁর জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কেবল কাগজে-কলমে নয়, বরং সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয়, বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ এবং উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপনের প্রস্তাব ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে জনগণের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার সহজ হয়।

রাষ্ট্রের মূলনীতি নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের কোনো প্রস্তাব নেই। বরং সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ একটি বহু জাতিগোষ্ঠী, বহু ধর্ম, বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির দেশ— এই বাস্তবতাকে সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বহাল রেখে অন্যান্য মাতৃভাষাকেও দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়েও ব্যাপক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদের একটি কমিটির মাধ্যমে— যেখানে ক্ষমতাসীন দল ও প্রধান বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা থাকবেন— আলোচনার ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভোটাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন, মানুষের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার হলো ভোট দেওয়ার অধিকার। অন্তত পাঁচ বছরে একবার নাগরিক যেন তাঁর পছন্দ বা অপছন্দ জানানোর সুযোগ পান। কিন্তু এই ন্যূনতম অধিকারটিও দীর্ঘদিন ধরে রক্ষা করা হয়নি।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, বিদ্যমান সংবিধান বহাল থাকলে ক্ষমতায় যে-ই আসুক না কেন, তাঁর ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকবে। কারণ এই কাঠামোতে ১৫-২০ বছর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি হয়। তাই সংবিধান সংস্কার অপরিহার্য।

আলী রীয়াজ বলেন, যারা ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই সংস্কার জরুরি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মধ্য দিয়েই এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মহান মে দিবস: শ্রমিকের ঘামেই সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি— প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোটের আহ্বান, সংবিধানে মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও অগণতান্ত্রিক শাসনকাঠামো ভেঙে নতুন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে ব্যাপক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে এবং এই সংস্কার বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হলো গণভোটের মাধ্যমে জনগণের স্পষ্ট রায়।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এই সভার আয়োজন করে।

আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন, গত বছরের জুলাই মাসে দেশজুড়ে যে গণআন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল, তা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, ধর্ম, বর্ণ বা মতাদর্শের ভিত্তিতে ছিল না। বরং বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার অবসানের একটি মাত্র লক্ষ্যে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এবং এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে একজন ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকার ফলে নাগরিকদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হয়েছে। একাধিক জাতীয় নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানকে নিজেদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর সমালোচনা করে আলী রীয়াজ বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী একক সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং এমনকি বিচার বিভাগকেও প্রভাবিত করতে পারেন। যদিও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির, তবে বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ বাধ্যতামূলক হওয়ায় ক্ষমতার চরম কেন্দ্রীকরণ ঘটেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংসদীয় কমিটির ২৫টি বৈঠক এবং ১০৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মতামত উপেক্ষা করে কেবল শেখ হাসিনার একক ইচ্ছায় পুরো সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে জনগণের ভোটাধিকার কার্যত রুদ্ধ হয়ে যায়।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ বেশ কিছু মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— একজন ব্যক্তি তাঁর জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কেবল কাগজে-কলমে নয়, বরং সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয়, বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ এবং উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপনের প্রস্তাব ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে জনগণের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার সহজ হয়।

রাষ্ট্রের মূলনীতি নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের কোনো প্রস্তাব নেই। বরং সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ একটি বহু জাতিগোষ্ঠী, বহু ধর্ম, বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির দেশ— এই বাস্তবতাকে সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বহাল রেখে অন্যান্য মাতৃভাষাকেও দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়েও ব্যাপক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদের একটি কমিটির মাধ্যমে— যেখানে ক্ষমতাসীন দল ও প্রধান বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা থাকবেন— আলোচনার ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভোটাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন, মানুষের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার হলো ভোট দেওয়ার অধিকার। অন্তত পাঁচ বছরে একবার নাগরিক যেন তাঁর পছন্দ বা অপছন্দ জানানোর সুযোগ পান। কিন্তু এই ন্যূনতম অধিকারটিও দীর্ঘদিন ধরে রক্ষা করা হয়নি।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, বিদ্যমান সংবিধান বহাল থাকলে ক্ষমতায় যে-ই আসুক না কেন, তাঁর ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকবে। কারণ এই কাঠামোতে ১৫-২০ বছর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি হয়। তাই সংবিধান সংস্কার অপরিহার্য।

আলী রীয়াজ বলেন, যারা ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই সংস্কার জরুরি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মধ্য দিয়েই এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।