মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের জেন-জি আন্দোলন ও বাংলাদেশের ‘চব্বিশের বিপ্লব’: শিক্ষা ও ভিন্নতার নিরিখে বিশ্লেষণ

ভারতের জেন-জি আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘চব্বিশের বিপ্লব’-এর মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকেই। বিশেষ করে, পুলিশের প্রিজন-ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী হওয়া তরুণ-তরুণীদের সাহসিকতার দিক থেকে রিয়ার সঙ্গে আমাদের নুসরাতের মিল দেখা গেছে। তবে, এই দুই আন্দোলনের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অমিলও ছিল, যা নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি—না বাংলাদেশে, না ভারতে।

মূল অমিলটি ছিল রাজনৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে। ভারত তাদের ‘চব্বিশের বিপ্লব’ থেকে শিক্ষা নিলেও, আমরা নিজেরা তা নিতে ব্যর্থ হয়েছি। ভারত কী শিক্ষা নিয়েছে, তা বিচার করলে প্রথমেই আসে, এত বড় আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে একজন শিক্ষার্থীরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ভারতের পুলিশ বাংলাদেশের মতো ততটা কঠোর বা নৃশংস ছিল না, যার ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তুলনামূলকভাবে ‘চিল মুডে’ ছিল। সেখানে আন্দোলন রিলস, মিম এবং গান-বাজনার মধ্য দিয়েও অগ্রসর হয়েছে, যেখানে বিনোদনের অভাব ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের ‘চব্বিশের বিপ্লব’ চলাকালীন এমন ‘চিল’ করার চিন্তা অসম্ভব ছিল। গুলির ভয়, গ্রেপ্তার আতঙ্ক, গুমের ভয়াবহতা—সব মিলিয়ে এক অসহনীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, যেখানে প্রতি মুহূর্তে জীবনের শঙ্কা ছিল।

ভারতে এই ভয় ছিল না, কারণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকার বাংলাদেশের ‘চব্বিশ’ থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন। ফলে পুলিশের বাড়াবাড়ি দেখা যায়নি। সেখানকার জেন-জিরা পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলেছে, এমনকি পুলিশের সঙ্গে ঠাট্টা-মশকরাও করেছে। মোদি সরকার বুঝেছিল যে, একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেই তাদের ক্ষমতা টলে যেতে পারে। সরকার রক্ষা করার জন্য তারা তাদের অন্যতম প্রধান নেতা, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। তারা জানত, ধর্মেন্দ্রকে রক্ষা করতে গেলে আন্দোলন ‘নো রিটার্নে’ পৌঁছে যেতে পারত এবং বাংলাদেশের মতো এক দফায় মোদির পতন ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকত না। পরিস্থিতিকে সেই ‘নো রিটার্নে’ যেতে দেননি মোদি সরকার, কারণ তারা বাংলাদেশের ‘চব্বিশ’ থেকে শিক্ষা নিয়েছিল। ফলে তারা এখনও ক্ষমতায় টিকে আছে।

বাংলাদেশের ‘চব্বিশে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা, যেমন নাহিদ, সারজিস, হাসনাতরা, কোটা বিষয়ে যে দাবি তুলেছিলেন, তা মেনে নিলেই আন্দোলন সেখানেই থেমে যেত। কিন্তু সরকারের গোঁয়ার্তুমি, হিংস্রতা এবং প্রতিশোধপরায়ণতা—সব মিলে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে এক গণবিপ্লবে পরিণত করেছিল। ভারতের মোদি সরকার তাদের জেন-জিদের বাংলাদেশ স্টাইলে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়নি। ফলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেই আন্দোলন থেমে গেছে। সেখানে আন্দোলনকে বিপ্লবে পরিণত করা সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাইভেট সেক্টরে যাচ্ছে কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন, পর্যটন হাব করার পরিকল্পনা সরকারের

ভারতের জেন-জি আন্দোলন ও বাংলাদেশের ‘চব্বিশের বিপ্লব’: শিক্ষা ও ভিন্নতার নিরিখে বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ১০:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের জেন-জি আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘চব্বিশের বিপ্লব’-এর মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকেই। বিশেষ করে, পুলিশের প্রিজন-ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী হওয়া তরুণ-তরুণীদের সাহসিকতার দিক থেকে রিয়ার সঙ্গে আমাদের নুসরাতের মিল দেখা গেছে। তবে, এই দুই আন্দোলনের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অমিলও ছিল, যা নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি—না বাংলাদেশে, না ভারতে।

মূল অমিলটি ছিল রাজনৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে। ভারত তাদের ‘চব্বিশের বিপ্লব’ থেকে শিক্ষা নিলেও, আমরা নিজেরা তা নিতে ব্যর্থ হয়েছি। ভারত কী শিক্ষা নিয়েছে, তা বিচার করলে প্রথমেই আসে, এত বড় আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে একজন শিক্ষার্থীরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ভারতের পুলিশ বাংলাদেশের মতো ততটা কঠোর বা নৃশংস ছিল না, যার ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তুলনামূলকভাবে ‘চিল মুডে’ ছিল। সেখানে আন্দোলন রিলস, মিম এবং গান-বাজনার মধ্য দিয়েও অগ্রসর হয়েছে, যেখানে বিনোদনের অভাব ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের ‘চব্বিশের বিপ্লব’ চলাকালীন এমন ‘চিল’ করার চিন্তা অসম্ভব ছিল। গুলির ভয়, গ্রেপ্তার আতঙ্ক, গুমের ভয়াবহতা—সব মিলিয়ে এক অসহনীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, যেখানে প্রতি মুহূর্তে জীবনের শঙ্কা ছিল।

ভারতে এই ভয় ছিল না, কারণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকার বাংলাদেশের ‘চব্বিশ’ থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন। ফলে পুলিশের বাড়াবাড়ি দেখা যায়নি। সেখানকার জেন-জিরা পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলেছে, এমনকি পুলিশের সঙ্গে ঠাট্টা-মশকরাও করেছে। মোদি সরকার বুঝেছিল যে, একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেই তাদের ক্ষমতা টলে যেতে পারে। সরকার রক্ষা করার জন্য তারা তাদের অন্যতম প্রধান নেতা, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। তারা জানত, ধর্মেন্দ্রকে রক্ষা করতে গেলে আন্দোলন ‘নো রিটার্নে’ পৌঁছে যেতে পারত এবং বাংলাদেশের মতো এক দফায় মোদির পতন ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকত না। পরিস্থিতিকে সেই ‘নো রিটার্নে’ যেতে দেননি মোদি সরকার, কারণ তারা বাংলাদেশের ‘চব্বিশ’ থেকে শিক্ষা নিয়েছিল। ফলে তারা এখনও ক্ষমতায় টিকে আছে।

বাংলাদেশের ‘চব্বিশে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা, যেমন নাহিদ, সারজিস, হাসনাতরা, কোটা বিষয়ে যে দাবি তুলেছিলেন, তা মেনে নিলেই আন্দোলন সেখানেই থেমে যেত। কিন্তু সরকারের গোঁয়ার্তুমি, হিংস্রতা এবং প্রতিশোধপরায়ণতা—সব মিলে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে এক গণবিপ্লবে পরিণত করেছিল। ভারতের মোদি সরকার তাদের জেন-জিদের বাংলাদেশ স্টাইলে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়নি। ফলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেই আন্দোলন থেমে গেছে। সেখানে আন্দোলনকে বিপ্লবে পরিণত করা সম্ভব হয়নি।