ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

উখিয়ায় শতবর্ষী পথ বন্ধ করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ, সংঘর্ষে আহত ৫

কক্সবাজারের উখিয়ায় শত বছরের পুরোনো একটি যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের মরিচ্যা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরিচ্যা বাজার সংলগ্ন এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ একশ বছর ধরে একটি পথ যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। অভিযোগ উঠেছে, হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস চৌধুরী ওই পথটি বন্ধ করে সেখানে দোকান ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে ওই পরিবারের সদস্যদের চলাচলের একমাত্র পথটি রুদ্ধ হয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

এই সংঘর্ষে আহতরা হলেন—শিল্পী কর্মকার (৪৮), স্বপ্না কর্মকার (২০), সুরেশ কর্মকার (৫০) ও রফিক (২৫)। আহত অন্য একজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের এই পুরোনো পথটি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের চলাচলের পাশাপাশি বাজারের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশও বিঘ্নিত হবে। মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুর আলম অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই মসজিদের জায়গায় দোকান নির্মাণ করে তা ভাড়া দিয়েছেন। এখন শতবর্ষী পথটি বন্ধ করে নতুন করে দোকান তোলা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় সংখ্যালঘু পরিবার ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মরিচ্যা বাজার মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করে জানান, চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে ইমরুল কায়েস চৌধুরী একক সিদ্ধান্তে সব কাজ করছেন। মসজিদ কমিটির মতামত তোয়াক্কা না করে এবং কোনো প্রকার স্বাক্ষর ছাড়াই তিনি বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর উখিয়া থানার এএসআই মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। তবে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল মাগরিবের পর মরিচ্যা বাজারে মশাল মিছিল বের করেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, রফিক উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এনসিপির ব্যানারে উখিয়া সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে উখিয়া থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় শতবর্ষী পথ বন্ধ করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ, সংঘর্ষে আহত ৫

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় শত বছরের পুরোনো একটি যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের মরিচ্যা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরিচ্যা বাজার সংলগ্ন এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ একশ বছর ধরে একটি পথ যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। অভিযোগ উঠেছে, হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস চৌধুরী ওই পথটি বন্ধ করে সেখানে দোকান ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে ওই পরিবারের সদস্যদের চলাচলের একমাত্র পথটি রুদ্ধ হয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

এই সংঘর্ষে আহতরা হলেন—শিল্পী কর্মকার (৪৮), স্বপ্না কর্মকার (২০), সুরেশ কর্মকার (৫০) ও রফিক (২৫)। আহত অন্য একজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের এই পুরোনো পথটি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের চলাচলের পাশাপাশি বাজারের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশও বিঘ্নিত হবে। মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুর আলম অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই মসজিদের জায়গায় দোকান নির্মাণ করে তা ভাড়া দিয়েছেন। এখন শতবর্ষী পথটি বন্ধ করে নতুন করে দোকান তোলা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় সংখ্যালঘু পরিবার ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মরিচ্যা বাজার মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করে জানান, চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে ইমরুল কায়েস চৌধুরী একক সিদ্ধান্তে সব কাজ করছেন। মসজিদ কমিটির মতামত তোয়াক্কা না করে এবং কোনো প্রকার স্বাক্ষর ছাড়াই তিনি বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর উখিয়া থানার এএসআই মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। তবে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল মাগরিবের পর মরিচ্যা বাজারে মশাল মিছিল বের করেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, রফিক উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এনসিপির ব্যানারে উখিয়া সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে উখিয়া থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।