ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ ৩ জন নিহত, পুলিশি গাফিলতির অভিযোগে সড়ক অবরোধ

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বানেশ্বরের পোল্লাপুকুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা, যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহান।

নিহতদের মধ্যে একজন হলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল ইইই (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম। তার বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার বালাদিয়ার গ্রামে। নিহত অপর পুরুষ ও নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে রাজশাহী থেকে পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল একটি অটোরিকশা। বানেশ্বরের পোল্লাপুকুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা রাজশাহীগামী ‘রাজকীয়’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শান্ত ইসলাম প্রাণ হারান। বাকি দুজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। আহত ছয়জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

দুর্ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সীমানা জটিলতা নিয়ে পুলিশের মধ্যে দায়িত্ব অবহেলা দেখা গেছে। এই অভিযোগ তুলে তারা রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল কাজী জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ‘রাজকীয়’ নামের বাসটি আটক করেন। তবে ঘটনাস্থল বেলপুকুর থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা সেখান থেকে চলে আসেন। খবর পেয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পিরোজপুরে ২৪ কোটি টাকা নিয়ে ‘পরিবর্তন সঞ্চয়’ মালিক উধাও: শত শত গ্রাহক নিঃস্ব

রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ ৩ জন নিহত, পুলিশি গাফিলতির অভিযোগে সড়ক অবরোধ

আপডেট সময় : ১০:১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বানেশ্বরের পোল্লাপুকুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা, যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহান।

নিহতদের মধ্যে একজন হলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল ইইই (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম। তার বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার বালাদিয়ার গ্রামে। নিহত অপর পুরুষ ও নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে রাজশাহী থেকে পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল একটি অটোরিকশা। বানেশ্বরের পোল্লাপুকুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা রাজশাহীগামী ‘রাজকীয়’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শান্ত ইসলাম প্রাণ হারান। বাকি দুজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। আহত ছয়জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

দুর্ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সীমানা জটিলতা নিয়ে পুলিশের মধ্যে দায়িত্ব অবহেলা দেখা গেছে। এই অভিযোগ তুলে তারা রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল কাজী জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ‘রাজকীয়’ নামের বাসটি আটক করেন। তবে ঘটনাস্থল বেলপুকুর থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা সেখান থেকে চলে আসেন। খবর পেয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।