## কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, জামায়াতের আশায় দিন গোনা
কিশোরগঞ্জ, [আজকের তারিখ]: কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ উত্তপ্ত। ঐতিহাসিকভাবে এই আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থান থাকলেও, এবার দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল সুযোগ করে দিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে। বিশেষ করে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর উত্থান দলটির মূল প্রার্থীকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, যা জামায়াতে ইসলামী আসন্ন নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করছে।
১৯৭৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জয়লাভ করেছিল বিএনপি। এমনকি ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকেও পরাজিত হতে হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিএনপির মূল প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা, যিনি বাবার হাতে গড়া দল বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন, তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তার বিপরীতে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে বিদ্রোহী প্রার্থী ইকবাল দলীয় প্রার্থী হুদার চেয়েও অধিক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। যদিও বিএনপির মূল প্রার্থী এবং তার সমর্থকরা সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশা করছেন।
এই অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে আসনটি দখলে নিতে চাইছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াত নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বিএনপির এই বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে তারা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে পারবেন। এই লক্ষ্যে তারা ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি এএইচএম কাইয়ুম (হাসনাত কাইয়ুম) নিজেও কিছু ভোটারের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মোট আটজন প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে দুই জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি এএইচএম কাইয়ুম। বাকি ছয় প্রার্থী হলেন বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা, জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন কাসেমী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ প্রার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ।
এই মুহূর্তে, বিএনপির মূল প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল দুজনেই সমান তালে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী ইকবাল নিজেকে ‘জনগণের প্রার্থী’ হিসেবে দাবি করে বলছেন, “আমি বিদ্রোহী নই, জনগণ আমাকেই পছন্দ করে। আমাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবে এটা আমার বিশ্বাস।” অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী রমজান আলী দাবি করছেন যে তিনি দুই উপজেলাতেই দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ করছেন এবং প্রায় ৮০ ভাগ ভোটারের সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে। তিনি বলছেন, “ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। এর সঙ্গে সাধারণ ভোটার আমার ভরসা। মানুষ এবার পরিবর্তন চায়। একটা ভালো কিছু আশা করছি।”
রিপোর্টারের নাম 



















