ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সরগরম নির্বাচনী মাঠ: তারেক-শফিকুরের পাল্টাপাল্টি তোপে শুরু হলো ভোটযুদ্ধ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনেই রাজপথের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনসভায় তিনি ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার করার পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও কর্মসংস্থানের মতো জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তবে তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি কড়া ইঙ্গিত।

তিনি নাম উল্লেখ না করে বলেন, যারা ১৯৭১ সালে লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল এবং মা-বোনদের সম্মানহানি করেছিল, তাদের মানুষ চিনে নিয়েছে। ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে আগাম ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতিকে তিনি ‘শিরক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, যারা আল্লাহর মালিকানাধীন জিনিসের প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা মূলত মানুষকে ঠকাচ্ছে।

অন্যদিকে, বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত এই সভায় তিনি ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে একটি ইনসাফভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তারেক রহমানের সমালোচনার পাল্টা জবাবে তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা নিজেদের কর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে পারবে না, তাদের দেওয়া উন্নয়নের স্বপ্ন জাতি বিশ্বাস করবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ৫ আগস্টের পর কোনো গোষ্ঠী যদি ‘নতুন কোনো জামা’ পরে ফ্যাসিবাদের চর্চা করতে চায়, তবে তাদের পরিণতিও আগের স্বৈরশাসকদের মতোই হবে। ডা. শফিকুর রহমান এ সময় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

একই দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মাধ্যমে তাদের প্রচারণা শুরু করে। এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম জনসভায় বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ নিয়ে উপহাস করে বলেন, সামান্য ২ হাজার টাকার কার্ড দিয়ে পরিবারের কী হয়? তিনি এই নির্বাচনকে কেবল সরকার বদল নয়, বরং দেশ ও ব্যবস্থা পরিবর্তনের লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন। এদিকে প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করতে বিএনপি তাদের অফিশিয়াল থিম সং ‘ভোট দিবেন কিসে ধানের শীষে’ প্রকাশ করেছে, যা আতিয়া আনিশা ও নিলয়ের কণ্ঠে এরই মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়েছে। প্রথম দিনের প্রচারণায় কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, বরং সারা দেশে এক উৎসবমুখর নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননের হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলা

সরগরম নির্বাচনী মাঠ: তারেক-শফিকুরের পাল্টাপাল্টি তোপে শুরু হলো ভোটযুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনেই রাজপথের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনসভায় তিনি ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার করার পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও কর্মসংস্থানের মতো জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তবে তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি কড়া ইঙ্গিত।

তিনি নাম উল্লেখ না করে বলেন, যারা ১৯৭১ সালে লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল এবং মা-বোনদের সম্মানহানি করেছিল, তাদের মানুষ চিনে নিয়েছে। ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে আগাম ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতিকে তিনি ‘শিরক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, যারা আল্লাহর মালিকানাধীন জিনিসের প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা মূলত মানুষকে ঠকাচ্ছে।

অন্যদিকে, বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত এই সভায় তিনি ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে একটি ইনসাফভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তারেক রহমানের সমালোচনার পাল্টা জবাবে তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা নিজেদের কর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে পারবে না, তাদের দেওয়া উন্নয়নের স্বপ্ন জাতি বিশ্বাস করবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ৫ আগস্টের পর কোনো গোষ্ঠী যদি ‘নতুন কোনো জামা’ পরে ফ্যাসিবাদের চর্চা করতে চায়, তবে তাদের পরিণতিও আগের স্বৈরশাসকদের মতোই হবে। ডা. শফিকুর রহমান এ সময় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

একই দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মাধ্যমে তাদের প্রচারণা শুরু করে। এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম জনসভায় বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ নিয়ে উপহাস করে বলেন, সামান্য ২ হাজার টাকার কার্ড দিয়ে পরিবারের কী হয়? তিনি এই নির্বাচনকে কেবল সরকার বদল নয়, বরং দেশ ও ব্যবস্থা পরিবর্তনের লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন। এদিকে প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করতে বিএনপি তাদের অফিশিয়াল থিম সং ‘ভোট দিবেন কিসে ধানের শীষে’ প্রকাশ করেছে, যা আতিয়া আনিশা ও নিলয়ের কণ্ঠে এরই মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়েছে। প্রথম দিনের প্রচারণায় কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, বরং সারা দেশে এক উৎসবমুখর নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।